বিমানের পাইলটদের অতিরিক্ত উড্ডয়ন: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফ্লাইট পরিচালনা
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Thursday, November 27, 2025
সংগৃহীত ছবি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলটরা নিরাপদ সীমার বাইরে অতিরিক্ত সময় উড়তে বাধ্য হচ্ছেন, যা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) ব্যর্থতা । একারনে মারাত্মক ফ্লাইট নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
গত তিন বছরে অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘণ্টার কারণে ছয়জন পাইলট হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আছেন ক্যাপ্টেন সৈয়দ বজলুর রহমান, মোকাসসিদ হোসাইন, আনিসুর রহমান, জয়নাল মিয়া ও এ. এম. মাকসুদ আহমেদ। অন্তত দুই পাইলট মাঝ-আকাশে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন, তবে কো-পাইলটদের তাৎক্ষণিক সতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
পাইলটরা বছরে ১,২০০ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়ছেন—কেউ কেউ টানা ১২ মাসে ১,৪০০ ঘণ্টাও অতিক্রম করছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ফ্লাইট ঘণ্টা সীমা ১,০০০। জানা গেছে, অনেক পাইলটকে কিছু মাসে ১২০ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে হচ্ছে যথাযথ বিশ্রাম ছাড়া।
চরম ক্লান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিমানের সেফটি ডিপার্টমেন্টে ৫০০-র বেশি রিপোর্ট জমা পড়েছে, কিন্তু কোনো রিপোর্টের আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র ক্যাপ্টেন সতর্ক করেছেন যে—ক্লান্তিজনিত দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
দৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাইলটদের জীবনঝুঁকি নিয়ে অভিযোগগুলো বছরের পর বছর অমীমাংসিত রয়ে গেছে, এমনকি অডিটের সময়ও অনেক বিষয়ে চোখ বন্ধ করে যাওয়া হয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপত্তি তুললেই পাইলটরা হয়রানির শিকার হন, ফলে অধিকাংশ ক্রু শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিমান বিশেষজ্ঞ ও সাবেক উইং কমান্ডার এ টি এম নাজরুল ইসলাম বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অবশ্যই নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দুর্নীতির মাধ্যমে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে কোনো সময়েই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিমানের পরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম স্বীকার করেন যে হজ মৌসুমে কিছু ব্যতিক্রম ঘটত, তবে এখন আর তা হয় না। তিনি বলেন, বিমান সবসময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং আইন ভাঙার কোনো সুযোগ নেই।