দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে আধিপত্যে কি চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারবে বাংলাদেশ?
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, December 13, 2025
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ইউরোফাইটার টাইফুন জেট কেনার সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথের শক্তির ভারসাম্যকে নতুনভাবে রূপ দিতে পারে, বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইতালির লিওনার্দো S.p.A. এর সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৪.৫ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য। এটি ঢাকার সর্বাধিক ам্বিশনীয় প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের দীর্ঘমেয়াদী “সকলের বন্ধু, কারও প্রতি শত্রু নয়” নীতি থেকে বিচ্যুতি নির্দেশ করছে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রেক্ষাপটে।
ইউরোফাইটার টাইফুনের সক্ষমতা ভারতের ফরাসি-উৎপাদিত রাফালে জেটের সমতুল্য, যা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশীরা তাদের বাহিনী আধুনিকীকরণ করলেও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পুরনো বিমান নির্ভর করে আসছে, যা দেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ভারত রাফালে চালায়, পাকিস্তান তৃতীয় প্রজন্মের JF-17 ব্যবহার করে। টাইফুন এবং রাফালে দু’টিই দ্বি-ইঞ্জিন বিশিষ্ট, উচ্চ আকাশ প্রাধান্য ও দীর্ঘ দূরত্বে আক্রমণ সক্ষমতার জন্য উন্নত অ্যাভিওনিক্সে সজ্জিত। পাকিস্তানের JF-17 একক ইঞ্জিন বিশিষ্ট হালকা যুদ্ধবিমান, যা কম খরচে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য।
টাইফুন ও রাফালে মিসাইল হিসেবে ব্যবহার করে মেটিওর, যা বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী এয়ার-টু-এয়ার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের JF-17 চীনের PL-15E মিসাইল ব্যবহার করে, যার পরিসর প্রতিযোগিতামূলক হলেও শত্রু বিমান ধ্বংসে কম নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়।
তবে টাইফুন চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণ চ্যালেঞ্জপূর্ণ। পাইলট প্রশিক্ষণে বেশি সময় লাগে, প্রতি ফ্লাইটে খরচ বেশি এবং ইউরোপীয় সরবরাহকারীদের দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা অপরিহার্য। JF-17 তুলনামূলকভাবে সস্তা, রক্ষণাবেক্ষণ সহজ এবং মিশনের জন্য দ্রুত প্রস্তুত করা যায়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউরোফাইটার কেনার ফলে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে আকাশ শক্তিতে সামান্য সুবিধা পাবে। যদিও ভারতের তুলনায় শীর্ষে ওঠা কঠিন, তবে টাইফুন থাকায় নয়া দিল্লিকে ঢাকাকে আঞ্চলিক হিসাবেও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, “ইউরোফাইটার টাইফুন বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে,” এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে ভারতের একতরফা আধিপত্যকে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
সূত্র: এনটিভি নিউজ