তারেক রহমানের ফেরাকে ঘিরে লন্ডন রুটে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, December 17, 2025
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটের চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। এতে করে ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর ঢাকাগামী বিমানের সব ফ্লাইট সম্পূর্ণ বুকড হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে লন্ডন থেকে রওনা দিয়ে পরদিন ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন। এ ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রুটে টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বর্তমানে ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বরের কোনো ফ্লাইটেই বিমানের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক যাত্রী ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর ট্রানজিট ফ্লাইটে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, টিকিট না থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিনই ক্রমাগত অনুসন্ধান আসছে। বিমানের টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী এখন এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও সৌদি এয়ারলাইন্সে বুকিং দিচ্ছেন, যাতে তারা ২৫ ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন।
বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরবেন। তাঁর সঙ্গে কারা কারা আসবেন, সে বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা একটি তালিকা প্রস্তুত করছেন। তবে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের তারিখ ঘোষণার পর ১২ ডিসেম্বর রাতে যুক্তরাজ্যে বিএনপি নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। অনেক নেতা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একদিকে লন্ডন ছাড়ার বেদনা, অন্যদিকে দেশে ফেরা এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আনন্দ—এই দুই অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করছে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভয়ের কারণে ১০ থেকে ১২ বছর ধরে অনেক নেতাকর্মী দেশে যাননি। তাঁর ভাষায়, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে একসঙ্গে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা অনেকদিনের।” তিনি আরও জানান, কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার আশায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকিট কিনছেন, যাতে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে নিজেদের পরিচিত করা যায়।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নিশ্চিত করেছে, যেখানেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই বুকিং দেওয়া হচ্ছে। সবার মূল লক্ষ্য—২৫ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো।