Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

বেবিচকের লাইসেন্সিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার, চলছে লাইসেন্স জালিয়াতির তদন্ত

বেবিচকের লাইসেন্সিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার, চলছে লাইসেন্স জালিয়াতির তদন্ত

ফাইল ছবি

পাইলট লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্ত চলার মধ্যেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অভিযুক্ত পার্সোনেল লাইসেন্সিং, পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক সাইফুল হক শাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।


সোমবার বেবিচক এ তথ্য জানায়। এর আগে ১২ মার্চ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. তিরান হোসেনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সাইফুলকে আগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বেবিচকের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।


তবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ সরাসরি লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কি-না সে বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বেবিচক। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।


বেবিচকের একাধিক সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিমান) কয়েকজন পাইলটের লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। পাইলট লাইসেন্স প্রদান, পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকায় সাইফুল হক শাহের ভূমিকা তদন্তের আওতায় এসেছে।


অভিযুক্ত সাইফুলকে ১২ মার্চ থেকে কার্যকরভাবে স্ট্যান্ড রিলিজে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নৈমিত্তিক ছুটির হিসাব জমা দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।


উল্লেখ্য, স্ট্যান্ড রিলিজের মানে হলো কোনো কর্মকর্তাকে তার বর্তমান দায়িত্ব বা পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া, যাতে তিনি ওই পদে আর কাজ না করেন। তবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় না। তিনি প্রতিষ্ঠানের অধীনেই থাকেন। সাধারণত তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখা হয়। সাধারণত তদন্ত, বদলি, বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে কাউকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।


পার্সোনেল লাইসেন্সিং, পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে পাইলট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন এভিয়েশন পেশাজীবীদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন করা। পাশাপাশি লাইসেন্সের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন ও তদারকি করা, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করা এই বিভাগের কাজের অন্তর্ভুক্ত।


দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চার পাইলটের লাইসেন্স জালিয়াতির তথ্য সামনে আসে। এই ঘটনার পর বিমান ও বেবিচক উভয় প্রতিষ্ঠানেই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সাইফুল হক শাহের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এদিকে এভিয়েশন খাতে নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বিষয়ক নজরদারি বাড়ার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। পাইলট লাইসেন্স জালিয়াতির মতো ঘটনা বিমান নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


বেবিচকের এই পদক্ষেপ লাইসেন্সিং অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News