এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে সতর্ক করল আয়াটা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, January 31, 2026
কোলাজ: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ-আয়াটা)।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ চালু হলে যাত্রীদের পছন্দ, আকাশযাত্রা এমনকি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে এক আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আয়াটা।
চিঠিতে ঐ আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখ করে, অধ্যাদেশের ৪৩এ ধারা অনুযায়ী এয়ারলাইন ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তা মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
সংস্থাটি আরও জানায়, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে এভিয়েশন খাত উদারীকরণের পর থেকে বিশ্ব বাজারে এয়ারলাইন ভাড়া অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়।
আয়াটা সতর্ক করে জানায়, সরকার যদি সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে কৃত্রিমভাবে বাজারে সংকট তৈরি হতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগে অনেক এয়ারলাইন নিরুৎসাহিত হবে এবং পর্যাপ্ত আসন সক্ষমতা না থাকায় উল্টো ন্যূনতম টিকিট ভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক এয়ারলাইন কম গুরুত্বপূর্ণ বা প্রান্তিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এতে সেবার মান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আয়াটা আরও জানায়, বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশ বর্তমানে এয়ারলাইনের ভাড়া নির্ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত উত্তম চর্চা।
চিঠিতে প্রস্তাবিত ভাড়া জমা দেওয়ার (ফেয়ার ফাইলিং) নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে আয়াটা।
সংস্থাটির মতে, এ নিয়ম কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য নাকি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। যদি উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ করাই হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা ব্যাহত হবে।
এছাড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত উপদেষ্টা বোর্ডে বিভিন্ন লেভি (আরোপিত অতিরিক্ত অর্থ আদায়) ও চার্জ আরোপের বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়।
আয়াটা জানায়, সরকারী নিয়মে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) নির্ধারিত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবশ্যই স্বচ্ছ, ব্যয়ভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন চার্জ নির্ধারণ প্রক্রিয়া রাখতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এয়ারলাইন ভাড়া নির্ধারণে বাণিজ্যিক স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আয়াটা বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলে, এয়ারলাইন ভাড়ায় স্বাধীনতা বজায় রাখলে দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।
উল্লেখ্য, আয়াটা বিশ্বের প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এছাড়া বেসরকারি এয়ারলাইনের মধ্যে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা।