মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঢাকা বিমানবন্দরের ৭৪ ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, March 02, 2026
ফাইল ফটো
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ঝুঁকি দেখা যায়। এর ফলে একাধিক এয়ারলাইন বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বেসরকারি এয়ারলাইন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স রবিবার সকাল ১১টার পর জেদ্দা, দোহা ও রিয়াদগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করে। সৌদি এয়ারলাইনসও কয়েকটি ফ্লাইট চালু করে।
তবে আজ (সোমবার) ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। কাতার এয়ারওয়েজের দোহাগামী ফ্লাইট, কুয়েত এয়ারওয়েজের কুয়েত রুট এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট এখনো স্থগিত রয়েছে। কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। তবে রিয়াদ ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
সকাল থেকে বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা যথাযথ তথ্যের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েন। ফ্লাইটের অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত হালনাগাদ তথ্য না পেয়ে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে টার্মিনালে প্রবেশের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের যাত্রা অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে।
বোনকে সঙ্গে নিয়ে এসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ করেন এক নাগরিক। তিনি বলেন, “গতকাল থেকে হেল্পলাইনে বারবার ফোন করছি, কিন্তু সব সময় ব্যস্ত দেখাচ্ছে। কাস্টমার কেয়ার কর্মীরাও ব্যস্ত, তাই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।” তার বোনের ১ মার্চ রাত ৮টার ফ্লাইট কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এয়ারলাইনস কর্মীরা তাদের ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন, আর এজেন্সিগুলো আবার এয়ারলাইনস কাউন্টারে যেতে বলছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কাউন্টার বলছে এজেন্সিতে যান। আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। আমাদের কাগজপত্র ও টিকিট সব ঠিক। তাহলে আবার কেন নতুন টিকিট কিনতে হবে? এর কোনো যুক্তি নেই, কোনো সমাধান নেই। আমরা সকাল থেকে এখানে আছি।”
সিলেট থেকে আসা সৌদি আরবগামী চারটি টিকিট কেটেছেন এমন আরেক যাত্রী একই ধরনের বিভ্রান্তির সম্মুখীন হন। তিনি বলেন, “আমাকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দিচ্ছে না। অন্য গেট দিয়ে ঢুকে ওপরে গেলে একজন বলল ফ্লাইট ছাড়তেও পারে, নাও ছাড়তে পারে। বোর্ডে দেখাচ্ছে ফ্লাইট চালু আছে, বাতিল হয়নি। কিন্তু এখানে আমাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। যদি ফিরে যাই আর ফ্লাইট ছেড়ে দেয়, তাহলে চারটি টিকিটের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাই অপেক্ষা করছি। রমজানে সবাই রোজা রাখছে। তবুও কাউকে ভেতরে বসতে দিচ্ছে না, বাইরে থাকতে বলছে।”
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক যাত্রী জানান, বারবার জিজ্ঞাসা করার পরও তারা কোনো আপডেট পাননি।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা যাত্রীরা তথ্যের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে সৌদি আরবগামী যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ছাড়ার নিশ্চয়তা পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একজন যাত্রী বলেন, “সৌদি ফ্লাইট সময়মতো ছাড়বে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। তাই আমরা নির্ধারিত সময়েই যেতে পারব বলে স্বস্তি পাচ্ছি।”