Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঢাকা থেকে ১১ ফ্লাইট বাতিল আজ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঢাকা থেকে ১১ ফ্লাইট বাতিল আজ

ফাইল ছবি

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকায় আজ (২ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা এয়ারপোর্ট) থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।


এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ যাবত বাতিল হওয়া মোট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৪। ঐদিন ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানসহ ৭টি দেশ তাদের আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দেয়। রবিবার ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হলেও সোমবার সেই সংখ্যা কমে ১১-তে নেমে আসে।


দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতগামী রুট এখনো স্থগিত রয়েছে। এসব রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনগুলো তাদের পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যে ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।


ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বিকেল ৩:৪৫ মিনিটের আবুধাবিগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ সকাল ১০:৪৫ মিনিটের দোহাগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। কুয়েত এয়ারওয়েজ সকাল ১১:৩৫ মিনিটের কুয়েতগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার অ্যারাবিয়া তিনটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আর জাজিরা এয়ারওয়েজ মধ্যপ্রাচ্যমুখী সব কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।


ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স জানায়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সব ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় থাকবে। এয়ার ইন্ডিয়াও মধ্যপ্রাচ্যমুখী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিমান) আজ কোনো ফ্লাইট বাতিল করেনি।


রবিবার রাত থেকে ওমান এবং সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও মদিনাগামী সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এয়ারলাইনস এসব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এতে করে কিছু যাত্রীর স্বস্তি পাচ্ছেন।


আগে যেসকল ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল সেইসকল ফ্লাইটের যাত্রীদের আবার নতুন করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ব্যাকলগ বা জমে থাকা পূর্বের টিকিট সামাল দিতে আকাশযানের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য, সাধারণ সময়ে এয়ারলাইন ও বিমানবন্দর ইচ্ছে করেই পুরো সক্ষমতায় চলে না। সব সিট ভরে দেওয়া বা সব বিমান টাইট শিডিউলে চালানো হয় না। এছাড়া স্বাভাবিক সময়ে একটি উড়োজাহাজ নামার পর এর পরবর্তী উড়ানের মাঝে বাড়তি সময় রাখা হয়। কিন্তু ব্যাকলগের কারণে এই সময় কমিয়ে ফেলতে হয়। স্ট্যান্ড-বাই বা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারযোগ্য উড়োজাহাজও ব্যবহার করা হয়।


বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনালের ঘোষণা দেয় যে যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাদেরকে পূর্ব পাশের নির্ধারিত স্থানে অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন বা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সৌদি আরবগামী ফ্লাইট চালু হওয়ায় সেখানকার যাত্রীরা তারা নির্বিঘ্নে যাত্রা সম্পন্ন করতে পারছেন বলেও জানানো হয়।


ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের সংখ্যাই বেশি। তাদের অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ও চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এক যাত্রী জানান, তার ভিসার মেয়াদ মধ্যরাতে শেষ হবে।


আরেকজন দোহাগামী যাত্রী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন যে ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।


গত দুই দিনের তুলনায় টার্মিনালে ভিড় কিছুটা কমেছে। এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগেই বাতিল সংক্রান্ত তথ্য জানানো শুরু করায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমেছে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় হটলাইন চালু করেছে। বাংলাদেশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আকাশপথ খুলে স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফ্লাইট চালু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১০টি এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করলেও ২ মার্চ নাগাদ সেই সংখ্যা কমে তিন থেকে চারটিতে নেমে এসেছে।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News