অবশেষে আজ বিমান ও বোয়িং-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Thursday, April 30, 2026
-কোলাজ ছবি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে একটি ঐতিহাসিক উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, যেটি সংস্থাটির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিমান চলাচল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ সংস্থাটির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে কোম্পানির প্রতিনিধি চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ. হোসেন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থার এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে থাকবে আটটি বোয়িং 787-10 ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং 787-9 ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং 737-8 MAX জেট। উড়োজাহাজগুলোর আনুমানিক তালিকা মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
কর্মকর্তারা জানান, এই ক্রয়াদেশের লক্ষ্য হলো বিমানের বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।
ওয়াইড-বডি ড্রিমলাইনারগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ রুটে সেবা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে 737 MAX উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুট পরিচালনায় সহায়তা করবে।
এই চুক্তি স্বাক্ষরটি এমন এক সময় হচ্ছে, যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর দ্বারপ্রান্তে। এটিকে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিন বছরের বোয়িং–এয়ারবাস প্রতিযোগিতার অবসান
এই চুক্তির মাধ্যমে বোয়িং ও ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের মধ্যে গত তিন বছরের তীব্র প্রতিযোগিতারও অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
২০২৩ সালে উচ্চপর্যায়ের ইউরোপীয় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এয়ারবাস কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সফরের সময় আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে এবং বাংলাদেশ–যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতেও ১০টি এয়ারবাস A350 (কার্গোসহ) কেনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ ছিল।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের সম্পূর্ণ বোয়িং নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
অন্যদিকে বোয়িং দীর্ঘদিনের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যাপক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা চালায়। তারা ড্রিমলাইনার, কার্গো বিমান এবং স্বল্প দূরত্বের উড়োজাহাজের প্রস্তাব দিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখে।
বাণিজ্য কূটনীতির প্রেক্ষাপট
এই চুক্তির সময়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কূটনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য ভারসাম্য, শুল্ক সুবিধা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি আমদানি বৃদ্ধি করলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।
যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি, বিশ্লেষকদের মতে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হচ্ছে।