১৪-১৭ জুলাই বাংলাদেশে বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিরীক্ষা করবে যুক্তরাজ্যের ডিএফটি
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, July 12, 2026
যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) আগামী ১৪ থেকে ১৭ জুলাই বাংলাদেশে বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিরীক্ষা পরিচালনা করবে। এই নিরীক্ষায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের ডিএফটি এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিরীক্ষাকে সামনে রেখে তারা প্রায় ৮০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্যতা মূল্যায়নের জন্য এই দুটি নিরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোতে ভালো ফল অর্জন করলে বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সর্বশেষ ডিএফটির মূল্যায়নে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ এবং যাত্রী নিরাপত্তায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ মানদণ্ড পূরণ করেছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ২০১৮ সালে আইকাওর নিরাপত্তা নিরীক্ষায় বাংলাদেশ ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছিল, যা সে সময়ের আন্তর্জাতিক গড় মান ৬৫ শতাংশের চেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরের নিরীক্ষায় ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেবিচক।
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য আইকাওর এই নিরীক্ষায় সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা বেবিচকের প্রধান কার্যালয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সার্বিক প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
এছাড়া প্রস্তুতির অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং বাকি থাকা বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান প্রস্তুতি, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন এবং উচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিএফটি ও আইকাও—উভয় নিরীক্ষায় আরও ভালো ফল অর্জন করতে সক্ষম হবে। এর ফলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তা কাঠামোতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।