এটিজেএফবির সাথে বেবিচকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Monday, April 27, 2026
এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম
জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)-এর সদস্যদের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ
(বেবিচক)-এর এক মতবিনিময় সভা অনষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (সোমবার) বেবিচকের সদর
দপ্তরে এই মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়।
সভায় তৃতীয় টার্মিনাল চালু
ও ব্যবস্থাপনা, জাপানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি, ধাপে ধাপে অপারেশনাল পরিকল্পনা, নিরাপত্তা
জোরদার, আন্তর্জাতিক অডিট প্রস্তুতি এবং বিমানবন্দর পরিচালনায় ভবিষ্যৎ কৌশল - এসব বিষয়
নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বেবিচকের চেয়ারম্যান
এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার,
সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব-সহ এটিজেএফবি এবং বেবিচকের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছেন বেবিচক-এর চেয়ারম্যান
জানান, টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে হতে যাওয়া চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের
স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ
রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব। এ পর্যন্ত আমরা নয়বার তাদের সঙ্গে আলোচনায়
বসেছি। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণ রক্ষা করা হবে।”
চেয়ারম্যান জানান, আলোচনায়
কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও এখনো কিছু বিষয়ে ফাঁক রয়ে গেছে। তবে আগামী কয়েক মাসের
মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তির সময়সীমা নিয়ে জানতে
চাইলে তিনি বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার পর চুক্তি সই হতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর
৬ মাস থেকে এক বছরের একটি টেস্ট রান পরিচালনা করা হবে। টেস্ট রানের প্রায় ছয় মাস পর
সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা যাবে বলে আশা করেন তিনি।
সরকার ১৬ ডিসেম্বরকে একটি
ডেডলাইন হিসেবে নির্ধারণ করেছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ
এগিয়ে চলছে।
বিমানবন্দর শিফটিংয়ের ঝুঁকি
তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণা অনুযায়ী, একটি বিমানবন্দর থেকে
অন্যটিতে শিফটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই তা ব্যর্থ হয়। তাই আমরা সময়
নিয়ে এগোচ্ছি, আশা করছি কোনো ধরনের বিপদে পড়বো না।”
দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় টার্মিনাল
অচল পড়ে থাকায় সেখানে স্থাপিত যন্ত্রপাতির মেয়াদ বা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে চেয়ারম্যান জানান,
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসির (ADC) সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এডিসি জানিয়েছে,
তারা নিয়মিতভাবে ইকুইপমেন্টগুলোর মেইনটেনেন্স করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত
তা চালিয়ে যেতে পারবে। এমনকি মৌখিকভাবে তারা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সাপোর্ট দেওয়ার
কথাও জানিয়েছে। যদি জাপানি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে তাদের সঙ্গে এডিসি
সমন্বয় করে কাজ করবে।”
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের
পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “মূলত প্রতিযোগিতামূলক
পরিবেশ তৈরি এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক
বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন (আইকাও)-এর অডিট না হওয়া প্রসঙ্গে
চেয়ারম্যান জানান, “সর্বশেষ অডিট সম্পন্ন হয়েছে ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে তাদের আসার কথা
ছিল, তবে সিকিউরিটি কনসার্নের কারণে তারা আসেনি। এ বছরের অক্টোবরে একটি অডিট টিম আসার
কথা রয়েছে। তবে মূল অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের মধ্যে হবে বলে তারা আমাদের
জানিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, অডিট দেরি
হওয়ার পেছনে আরও কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
এছাড়া আলোচনা সভায় বিমানবন্দরগুলোর
নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।