কাতারের উপহার বিলাসবহুল বোয়িং-৭৪৭ যুক্ত হচ্ছে এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরে
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, June 20, 2026
ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে কাতারের দেওয়া বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজটি সর্বসমক্ষে উন্মোচন করেছেন এবং এটি শিগগিরই এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান এবং এই মানের বিমান ভবিষ্যতে আর তৈরি হওয়া সম্ভব হবে না।
কাতারের দেওয়া এই জাম্বো জেটটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এল থ্রি হ্যারিস টেকনোলজিস সংস্কার করেছে।
ট্রাম্পের পছন্দে লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালি রঙে সাজানো বিমানটির নতুন নকশা কেনেডি আমল থেকে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এয়ার ফোর্স ওয়ানের চিরচেনা রূপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
ট্রাম্প জানান, এই আধুনিকায়ন ছিল অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিদেশি নেতারা অনেক আধুনিক ও উন্নত বিমানে চলাফেরা করেন, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পুরনো বিমানে যাতায়াত করবেন — এটা মানানসই নয়।
তিনি আরও জানান, এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরের বাকি বিমানগুলোতেও একই নতুন নকশা প্রয়োগ করা হবে।
তবে কাতারের কাছথেকে এই উড়োজাহাজ উপহার হিসেবে গ্রহণ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত দ্রুত সংস্কার করা হয়েছে যে বিমানটি বিদ্যমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো ততটা নিরাপদ নাও হতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের হিসাবে রূপান্তর ব্যয় একশো কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইংক বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং সে মান নিশ্চিত রেখেই দ্রুত ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প নিজেও সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হতো নিরেট বোকামি।
উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের সঙ্গে ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত ৩৯০ কোটি ডলারের চুক্তিতে দুটি নতুন ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজ তৈরির কথা থাকলেও সেই প্রকল্প চার বছর পিছিয়ে গেছে এবং ব্যয় বেড়ে ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ফলে নতুন বিমান মিলবে ২০২৮ সালের মাঝামাঝিতে, অথচ ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। তাই কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিই আপাতত এয়ার ফোর্স ওয়ান বহারে উড়বে।
আগামী ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে ন্যাশনাল মলের আকাশে এই উড়োজাহাজটি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: রয়টার্স