ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে বন্ধ হলো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, February 28, 2026
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যাহত হয় এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা এয়ারপোর্ট) যাত্রীরা আটকা পড়েন।
বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাওসার মাহমুদ আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
ইসরায়েলের হামলায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কুয়েত, দুবাই এবং কাতার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
আকাশসীমা বন্ধ থাকায় প্রভাবিত রুটের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা পুনঃনির্ধারিত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে পরিচালিত সকল এয়ারলাইন্সের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।
এয়ারলাইন্সগুলোকে যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব সংক্রান্ত তথ্য আগাম এসএমএস, ইমেইল এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে বিমানবন্দরে এয়ারলাইন্স কর্মীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপ্রয়োজনীয় যাত্রী দুর্ভোগ এড়াতে পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইট সম্পর্কে এয়ারলাইন্সগুলোকে সমন্বিত ও স্পষ্ট তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয় বেবিচক। প্রভাবিত রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের দ্রুত এয়ারলাইন্স অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বেবিচক জানায়, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
নির্দেশনায় এই সংকটকালীন সময়ে যাত্রীদের সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ঢাকা-মধ্যপ্রাচ্য রুটে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজসহ আরও কয়েকটি বেসরকারি এয়ারলাইন। প্রতিদিন হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক ও যাত্রী পরিবহন করে এই এয়ারনলাইনগুলো।
কিন্তু আকাশসীমা বন্ধের ফলে চাকরি, ব্যবসা ও হজের উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি যাত্রীরা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো থেকে ট্রানজিট ফ্লাইটে সৌদি আরবে উমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীরা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন।