ইতালির নতুন অভিবাসন নীতির নিন্দা জানালো ৯ আইএনজিও
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, February 17, 2026
ফাইল ছবি
ইতালির নতুন অনুমোদিত অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে নিন্দা জানায় ৯ আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও)।
তাদের মতে, এই আইনের বিভিন্ন ধারা ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াবে। মানবিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সমুদ্র থেকে সরিয়ে দেবে।
১৬ ফেব্রুয়ারি ইতালীর সরকারের উদ্দেশ্যে লেখা এক উন্মুক্ত চিঠিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ১১ ফেব্রুয়ারি নীতি অনুমোদন করার পর এই চিঠি পাঠানো হয়।
স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমধ্যসাগরে সক্রিয় উদ্ধার সংস্থা অ্যালার্ম ফোন, ইমার্জেন্সি, মেডিসিন সঁ ফ্রঁতিয়ের, মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস, ওপেন আর্মস, রেসকিউ পিপল সেভিং পিপল, সি-ওয়াচ, এসওএস হিউম্যানিটি, এসওএস মেডিটেরানে।
এনজিওগুলোর দাবি, এই বিল মানবিক উদ্ধারকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। তারা আগের পিয়ানতেদোসি আইন ফ্লোজ ডিক্রির কথাও উল্লেখ করে, যা তাদের মতে এনজিওদের সমুদ্র উদ্ধার কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
নীতির সবচেয়ে বিতর্কিত ধারায় বলা হয়, ‘জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ থাকলে অভিবাসীবাহী জাহাজের ওপর ৩০ দিনের নৌ অবরোধ আরোপ করা যাবে। এই অবরোধ অমান্য করলে জাহাজকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ৭২ লাখ টাকা) জরিমানা করা হতে পারে এবং বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জাহাজ জব্দ করা হতে পারে।
এনজিওগুলোর মতে, এই অবরোধের ফলে নিরাপত্তা কমবে, দুর্ঘটনায় পড়া মানুষদের দুর্ভোগ বাড়বে এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার মতো জাহাজের সংখ্যা কমে যাবে। ইতালির জলসীমায় প্রবেশে প্রস্তাবিত ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞাকে তারা আন্তর্জাতিক উদ্ধার আইন ও সামুদ্রিক কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
চিঠিতে বলা হয়, “এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা আন্তর্জাতিক আইন ও উদ্ধার কনভেনশন লঙ্ঘন করে এবং মানুষের জীবন রক্ষার বাধ্যবাধকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
বিলে ‘নিরাপদ দেশ’ তালিকায় মিশর ও তিউনিসিয়াকে যুক্ত করা হয়েছে এবং সীমান্ত প্রক্রিয়া ও প্রত্যাবাসন আরও দ্রুত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে আশ্রয় প্রার্থনার অধিকার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছে এনজিওগুলো।
অন্যদিকে সেইভ দ্য চিলড্রেন এককভাবে সতর্কতা জানিয়ে বলে, এই বিল অভিভাবকহীন শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি ‘গুরুতর পশ্চাৎপদ পদক্ষেপ’।
জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইতালিতে সমুদ্রপথে আগমন কমলেও চলতি বছরে প্রায় ৪৯০ জন ইতোমধ্যে নিখোঁজ হয়েছেন।
৯ এনজিওই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার জানায়। তারা আরও জানায়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে মানবিক সহায়তা প্রদান ও জীবন রক্ষার কাজ তারা অব্যাহত রাখবে।
তবে নীতি কার্যকর হতে ইতালির সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা, ইনফোমাইগ্র্যান্টস