Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

ট্রাম্প চুক্তির প্রভাবে বোয়িংয়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্ডার দিচ্ছে ভারত

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Monday, February 09, 2026
ট্রাম্প চুক্তির প্রভাবে বোয়িংয়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্ডার দিচ্ছে ভারত

সাম্প্রতিক গুঞ্জন ও সরকারি ইঙ্গিত অনুযায়ী, শিগগিরই বোয়িং তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ একক দেশভিত্তিক অর্ডার পেতে যাচ্ছে ভারতের কাছ থেকে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ঘোষিত একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য কাঠামোর পর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানান, ভারত প্রায় ৭০–৮০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বোয়িং বিমান কেনার জন্য প্রস্তুত। ইঞ্জিন ও খুচরা যন্ত্রাংশ যুক্ত হলে এই অর্ডারের মোট মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।


এই বিমান কেনাকাটা আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তিটি আগামী মার্চে চূড়ান্ত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঙ্কটি এখনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও এটি একটি শক্তিশালী নীতিগত চাহিদার ইঙ্গিত দেয়, যা ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত বিমানবাজারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।


গয়াল জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইতোমধ্যে অর্ডার করা বোয়িং বিমান এবং নতুন করে অর্ডার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত উড়োজাহাজ—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এটি একটি একক সরকারি ক্রয়াদেশ নয়; বরং একাধিক ভারতীয় এয়ারলাইনের সম্ভাব্য অর্ডারের সমষ্টি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


বাস্তবে এসব ক্রয় সিদ্ধান্ত নেবে বিভিন্ন এয়ারলাইন, বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়া ও আকাসা এয়ার, যারা ইতোমধ্যেই বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের ওপর বড় অঙ্গীকার করেছে। ভারতের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের ফলে ওয়াইডবডি বিমানের চাহিদাও বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের অর্ডার তালিকায় আরও ৪০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স যুক্ত করার ঘোষণা দেয়।


অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক কমলে বিমান, ইঞ্জিন ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, যা ভারতের এয়ারলাইনগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় সুবিধা এনে দেবে।


আর্থিক দিক থেকে কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘোষিত ৭০–৮০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি মূলত একটি আনুমানিক হিসাব। বাস্তবে চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে ছাড়, সহায়তা প্যাকেজ ও চুক্তির শর্তের ওপর। এছাড়া বোয়িং সাধারণত বিমান হস্তান্তরের সময় রাজস্ব হিসাব করে, ফলে চুক্তি হলেও অর্থপ্রাপ্তি হবে দীর্ঘ সময়ে ধাপে ধাপে।


সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সার্টিফিকেশন জটিলতাও ডেলিভারির সময়সূচি ও মুনাফায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, ভারতীয় এয়ারলাইনগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করলেও সুদের হার, ডলারের বিপরীতে রুপির মান এবং লিজিং খরচের মতো বিষয়গুলোর প্রতি তারা সংবেদনশীল।


বোয়িংয়ের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

যদি এই গুঞ্জন বাস্তবে ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার পাইপলাইনে রূপ নেয়, তাহলে তা বোয়িংয়ের জন্য বিশাল সাফল্য হবে। এটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বিমানবাজারগুলোর একটিতে বোয়িংয়ের অবস্থান আরও শক্ত করবে। পাশাপাশি, ইঞ্জিন ম্যানেজমেন্ট, খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও আফটারমার্কেট সেবার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চ মুনাফার আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।


ভারতীয় সূত্র ও স্থানীয় প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্ডার বাড়লে বোয়িং ভারতের ভেতর থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও উৎপাদন কার্যক্রম বাড়াতে আগ্রহী, যা দেশটির সরবরাহ চেইন ও শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে। এমন একটি উচ্চমাত্রার চুক্তি বোয়িংয়ের ভাবমূর্তিও জোরদার করবে, বিশেষ করে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ বাজারে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে।

সূত্র: সিম্পল ফ্লাইং

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News