৭২,০০০ লিটার জেট ফুয়েল উধাও; থমকে আছে তদন্ত
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, April 02, 2026
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল উধাও হয়ে গেছে। তদন্ত কমিটি গঠনের ২৩ দিন পার হলেও এ বিষয়ে এখনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, পদ্মা অয়েল কোম্পানির প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেটের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। তদন্ত দলের সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত কর্মকর্তার একাধিক বৈঠক তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চুরির ঘটনাটি ঘটে ১১ মার্চ। ১৪ মার্চ পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অডিট) মোহাম্মদ শফিউল আজমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উচ্চপর্যায়ের সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, যেখানে এক-দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, তা বৃহস্পতিবারেও (২ এপ্রিল) প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্রধান অভিযুক্ত কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইদুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরও তদন্ত দলের সদস্যদের সঙ্গে তাকে একাধিকবার বৈঠক করতে দেখা গেছে, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।
তদন্তে দেখা গেছে, ১১ মার্চ কুর্মিটোলা ডিপোতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য নির্ধারিত চারটি ট্যাংকার লরি সিসিটিভি ফুটেজে ডিপোতে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। ১৪ ও ১৫ মার্চ তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও জ্বালানির মজুত পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে চুরির প্রমাণ পায়। কর্মকর্তারা ডিপোর সংরক্ষিত জ্বালানিতে বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত করেন।
প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর সাইদুল হককে কুর্মিটোলা ডিপো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৫ মার্চ পদ্মা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে তার বদলি হওয়ায় কোম্পানির অনেকেই বিস্মিত হন। তার স্থলে দৌলতপুর ডিপো থেকে মোহাম্মদ রিদওয়ানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, “তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করছে। জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আমরা ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদন দিতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সচিব শাহিনা সুলতানা জানান, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত দল অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল, যা মঞ্জুর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে জ্বালানি চুরির অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একই অভিযোগে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিপিসি। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি ও আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত করছে।
দুদক সূত্র জানায়, সাইদুল হক পদ্মা অয়েলের সাবেক শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আমিনুল হকের ছোট ভাই। তার ঢাকার বনানীতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং দামি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। ২০১৯ সালে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সময় বেতন সনদ জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বারবার দায়িত্ব দেওয়া সিন্ডিকেটের প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।