আরও ৩৬ অনথিভুক্ত বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, January 21, 2026
ছবি: সংগৃহীত
আরও ৩৬ জন অনথিভুক্ত
বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠালো মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গত বছরের শুরু থেকে এ
পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা মোট বাংলাদেশির সংখ্যা ২৯৩ জন।
মঙ্গলবার দুপুর
১২টায় এক বিশেষ মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে পৌঁছান। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা ব্রাজিল ও মেক্সিকো হয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে সেখানে আটক হওয়ার পর তাদের দেশে পাঠিয়ে
দেওয়া হয়।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা
প্রত্যেকে ঐ দেশে যেতে ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন বলে জানা গেছে।
অনেকেই পারিবারিক জমি বিক্রি করে, স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে কিংবা ঋণ নিয়ে এই অর্থ
জোগাড় করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করার আবেদন নাকচ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত
তারা খালি হাতেই দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
৩৬ জনের মধ্যে ২১ জন
নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া লক্ষ্মীপুর থেকে দুইজন এবং মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা,
লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল,
কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নেত্রকোনা থেকে একজন করে রয়েছেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন
প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা অধিকাংশ ব্যক্তি প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান।
তারা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অনুমোদন নিয়ে ঐ দেশে ভ্রমণ করেন।
পরে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
নোয়াখালীর জাহিদুল
ইসলাম জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তিনি দালালের হাতে
প্রায় ৮০ লাখ টাকা দেন। গাজীপুরের সুলতানা আক্তার ব্রাজিল ও মেক্সিকো রুটে যাওয়ার
জন্য ৩০ লাখ টাকা দেন। একইভাবে মির হাসান ৫৫ লাখ, রিয়াদুল ইসলাম ৫০ লাখ এবং রাকিব
৬০ লাখ টাকা হারান।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন
অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান প্রশ্ন তুলে বলেন,
ব্রাজিলে কাজের উদ্দেশ্যে যারা সরকারি অনুমোদন পান তারা আদৌ সেখানে কর্মসংস্থানের
জন্য যান কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিনি বলেন, কেউ যখন
৪০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করে শেষ পর্যন্ত কিছু না পেয়ে ফিরে আসে, তখন দায় কার?
যেসব সংস্থা এসব কর্মী পাঠায় এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদেরকে
জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের
বিমানবন্দরে প্রাথমিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক। সংস্থাটির তথ্যে জানা যায়, গত বছর থেকে
এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি বিএমইটির অনুমোদন নিয়ে ব্রাজিলে যান। এর
মধ্যে শুধু নোয়াখালী থেকেই যান ৯৫১ জন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই
অভিবাসন আইন প্রয়োগ করা আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের অনথিভুক্ত
অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।