সিঙ্গাপুরে আইকাও সম্মেলন: টেকসই বিমান চলাচলের পথে ২০৫০ ভিশন ঘোষণা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, February 05, 2026
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নবনিযুক্ত সভাপতি তোশিউকি ওনুমা বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এক নতুন যুগের সূচনার ইঙ্গিত দেন।
সোমবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত চাঙ্গি এভিয়েশন সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওনুমা আইকাওর ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা (Long-Term Strategic Plan) উপস্থাপন করেন। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক বিমান চলাচলকে আরও নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সবার জন্য সহজলভ্য করে তোলা বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইকাও।
ওনুমা এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যখন বিশ্বজুড়ে—বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে—আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় এখানে যাত্রী সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বব্যাপী বিমান যাত্রীর সংখ্যা তিন গুণে পৌঁছাতে পারে।
বক্তব্যে আইকাও সভাপতি বলেন, “আমাদের পরিবর্তনকে প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। আইকাওর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের একটি যৌথ অঙ্গীকার রয়েছে। এই পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে প্রয়োজনীয় রূপান্তর সাধন করতে হবে।
ভিশন ২০৫০ মূল লক্ষ্য
আইকাওর ২০৫০ কৌশলগত পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি বেশ কয়েকটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিমান চলাচলে শূন্য প্রাণহানি, নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণ, এবং বিশ্বের সব মানুষের জন্য সার্বজনীন বিমান পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যগুলো গত বছর আইকাও অ্যাসেম্বলিতে গৃহীত ৩২টি প্রস্তাবের মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়।
আইকাও জানিয়েছে, লক্ষ্য অর্জনে বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।
বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ওপর জোর
বক্তব্যে ওনুমা নতুন অংশীদারত্ব ও আর্থিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে সদ্য চালু হওয়া Finvest Hub–এর কথা উল্লেখ করেন তিনি, যার লক্ষ্য উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোতে বিমান অবকাঠামো ও টেকসই প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলকে পরিবর্তনের চালিকাশক্তি ও পরীক্ষাগার হিসেবে উল্লেখ করে আইকাও সভাপতি ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই বিমান চলাচলে সিঙ্গাপুরের অগ্রগতিকে বৈশ্বিকভাবে অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
পুরো বক্তব্যজুড়ে তিনি সমষ্টিগত উদ্যোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন এবং বলেন, বৈশ্বিক বিমান চলাচলের প্রবৃদ্ধিতে যেন কম উন্নত দেশগুলোও পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারে—সেটি নিশ্চিত করাই আইকাওর অন্যতম দায়িত্ব।
আইকাও জানায়, এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো আগামী দশকগুলোতে বিমান পরিবহনের দ্রুত সম্প্রসারণকে এমনভাবে পরিচালিত করা, যাতে তা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে টেকসই সুফল বয়ে আনে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা, পরিবেশ ও প্রবেশযোগ্যতার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়। সূত্র: আইকাও প্রেস রিলিজ