যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রেকর্ড
বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষাধিক ভিসা বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, January 13, 2026
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত এক বছরে দেশটির প্রশাসন এক লাখেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গত ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি বৈধ ভিসাধারীদের মধ্যেও যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজারটি শিক্ষার্থী ভিসা এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের ভিসা (এইচ-১বি ও এল-১বি) অন্তর্ভুক্ত। দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগোট জানান, মূলত চারটি কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে—ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, সহিংস অপরাধ এবং চুরি বা অনুরূপ অপরাধ।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারের এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
এদিকে, নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বৈধ ভিসাধারীর তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’, যা সার্বক্ষণিকভাবে বিদেশি নাগরিকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিসা বাতিল করা হবে।
নতুন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সামর্থ্য ও স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে আরও কড়াভাবে। পাশাপাশি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাদের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
এই কঠোর নীতির প্রভাবে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের শিক্ষার্থীরা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় অংশ জুড়ে রয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অপরাধ দমনের নামে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকেও অন্যায্যভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো মৌলিক অধিকার নয়; এটি একটি বিশেষ সুযোগ, যা আইন লঙ্ঘন করলে যে কোনো সময় বাতিল হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা