বিশ্বজুড়ে সহজেই দ্বিতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া যায় যে ৫টি দেশ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, January 06, 2026
কোলাজ: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকত্ব অর্জন এখনো অধিকাংশ মানুষের জন্য জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও, তুলনামূলকভাবে সহজ ও দ্রুত উপায়ে দ্বিতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে পাঁচটি দেশ। জনপ্রিয় মার্কিন বাণিজ্যিক ইনফোটেইনমেন্ট ওয়েবসাইট হাউস স্টাফ ওয়ার্কস (House Staff Works)–এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ডে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্ম আয়ারল্যান্ডে হলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিদেশে জন্ম নিবন্ধনের (Foreign Birth Registration) মাধ্যমে আবেদন করা যায়, যেখানে কোনো ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। আইরিশ নাগরিকত্বের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাসপোর্ট পাওয়া যায় এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ মেলে। দেশটি দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতিও দেয়।
ডোমিনিকা
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ ডোমিনিকা বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান করে। ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড বা অনুমোদিত রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। ডোমিনিকার পাসপোর্টধারীরা শেনজেন অঞ্চলসহ ১৪০টির বেশি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। এখানে স্থায়ী বসবাসের বাধ্যবাধকতা নেই এবং দ্বৈত নাগরিকত্বও অনুমোদিত।
তুরস্ক
তুরস্কে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অন্তত ৪ লাখ ৩৬ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের রিয়েল এস্টেট ক্রয় করলে কয়েক মাসের মধ্যেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এতে আগের নাগরিকত্ব বজায় রাখা যায় এবং তুরস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করাও বাধ্যতামূলক নয়। তুরস্কের পাসপোর্টে বহু দেশে ভিসা-মুক্ত বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে।
ভানুয়াতু
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান করে। সরকারি তহবিলে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ প্রদান করলে দুই মাসেরও কম সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। ভানুয়াতুর নাগরিকরা ১০০টির বেশি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুবিধা পান। দেশটিতে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা বিদেশি আয়ের ওপর অতিরিক্ত কর নেই।
পর্তুগাল
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে মৌলিক পর্তুগিজ ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। পর্তুগিজ নাগরিকত্বে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায় এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বিশ্বায়িত বাস্তবতায় ভ্রমণ, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নাগরিকত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রতিটি দেশের আইন, খরচ ও প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় আবেদন করার আগে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।