চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলা শনিবার, তিন দিনের বৈশাখী মেলায় মুখর হবে লালদিঘী
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, April 23, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের রক্তমাখা মাটিতে যে বলীখেলার সূচনা হয়েছিল একশো সতেরো বছর আগে, সেই ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা এবারও বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে। আগামী ২৫ এপ্রিল, শনিবার ১১৭তম আসরের পর্দা উঠবে। সঙ্গে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের বৈশাখী মেলায় জমে উঠবে গোটা লালদিঘী এলাকা। সব আয়োজন সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
১৯০৯ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছে উপমহাদেশ। সেই সময়ে চট্টগ্রামের মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর ভিন্ন এক পথে লড়াইয়ের সংকল্প নিলেন — যুবকদের দৈহিকভাবে সুগঠিত ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে চালু করলেন এই বলীখেলা। সেই থেকে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে লালদিঘী ময়দানে বসে এই মহামিলনের আসর। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বলিরা আসেন, দর্শকরা আসেন, আর এতেই তৈরী হয় উৎসবের আমেজ।
বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বুধবার সিটি করপোরেশন লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "১৯০৯ সালে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের ধারাবাহিকতায় এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।"
এবারের আসরকে ঘিরে লালদিঘী চত্বরে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বলীখেলার প্রবর্তক আবদুল জব্বার সওদাগরের নামানুসারে এলাকার মোড়টি আনুষ্ঠানিকভাবে 'আবদুল জব্বার চত্বর' নামকরণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। একইসঙ্গে উন্মোচন করা হয়েছে একটি টেরেকোটা ম্যুরাল। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে চত্বরটির উদ্বোধন করেন।
বাসস এক রিপোর্টে জানিয়েছে, বলীখেলার মূল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে আবু সুফিয়ানের।
জব্বারের বলীখেলাকে ঘিরে ২৪ এপ্রিল থেকে বৈশাখী মেলা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে এবারের মেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল রোববার মেলা শেষ হবে।
এ সময় আরও জানানো হয়, মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিএমপি ও র্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি, সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
লালদীঘি মাঠে বলীখেলার জন্য মূল রিং স্থাপন করা হবে। নগরীর কোতোয়ালি মোড়, আন্দরকিল্লা, সিনেমা প্যালেস ও বদরপাতি এলাকা ঘিরে বসবে বৈশাখী মেলার শতাধিক স্টল। শিশুর পুতুল-খেলনা থেকে শুরু করে খাবার, হস্তশিল্প, পোশাক ও কসমেটিকসহ নানান সামগ্রী পাওয়া যাবে এই মেলায়।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল ও সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বলীখেলার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তারা কাজ করছেন।
একইসঙ্গে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান ও চট্টগ্রামে একটি বলি খেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।