Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী “হারানো নগরী” পানাম নগর

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Wednesday, January 07, 2026
ইতিহাসের নীরব সাক্ষী “হারানো নগরী” পানাম নগর

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত পানাম নগর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। “হারানো নগরী” নামে পরিচিত এই পানাম সিটি এক সময় ছিল বাণিজ্য ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। শতাব্দী প্রাচীন ভবন, কারুকার্য আর নদীপথের ইতিহাস মিলিয়ে আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে এ নগরী।


ইতিহাস ও অবস্থান

১৫শ শতকে বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁ সোনারগাঁওয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সেই সময় থেকেই সোনারগাঁও অঞ্চল বাণিজ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত পানাম নগর আন্তর্জাতিক গুরুত্বও পেয়েছে। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগরকে অন্তর্ভুক্ত করে।


নদী ও নগর পরিকল্পনা

পানাম নগর চারদিক থেকে পঙ্খীরাজ খাল দ্বারা বেষ্টিত, যা মেনিখালী নদী হয়ে মেঘনার সঙ্গে মিলেছে। নগরীর পূর্ব পাশে মেঘনা এবং পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদী থাকায় একসময় নদীপথেই মসলিনসহ নানা পণ্যের রপ্তানি হতো। প্রবেশমুখে রয়েছে একটি বিশাল ফটক, যা অতীতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হতো। নিরাপত্তার কারণে এখনও সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের অবস্থান নিষিদ্ধ।


স্থাপত্য ও ভবন

পানাম নগরের স্থাপত্যে বৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তৎকালীন ধনী ব্যবসায়ী ও অভিজাত শ্রেণির বসবাসের জন্য নির্মিত এসব দালানে রয়েছে নান্দনিক নকশা ও কারুকাজ। নগরীর মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া মূল সড়কের দুই পাশে মোট ৫২টি ভবন রয়েছে—উত্তর পাশে ৩১টি ও দক্ষিণ পাশে ২১টি। ভবনগুলো এক, দুই ও তিনতলা বিশিষ্ট এবং প্রতিটিই নিজস্ব নকশার স্বাক্ষর বহন করে।


কী কী ছিল নগরীর ভেতরে

আবাসিক ভবনের পাশাপাশি পানাম নগরে ছিল মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মঠ, নাচঘর, চিত্রশালা, পান্থশালা, খাজাঞ্চিখানা, দরবার কক্ষ, গোসলখানা ও গুপ্ত পথ। এখানে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো টাকশাল বাড়ি এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নির্মিত নীলকুঠিও এখনো ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।


আশপাশের দর্শনীয় স্থান

লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর: পানাম নগর থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জাদুঘরের ১১টি গ্যালারিতে সংরক্ষিত আছে কাঠখোদাই শিল্প, মুখোশ, নৌকার মডেল, লোকজ বাদ্যযন্ত্র, পোড়ামাটির নিদর্শন, জামদানি ও নকশিকাঁথা।


গোয়ালদি মসজিদ: ১৫১৯ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত এই মসজিদটি স্থাপত্যপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।


যাতায়াত ও খরচ

ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ বা বোরাক পরিবহনের বাসে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত যাওয়া যায়। সেখান থেকে অটো বা রিকশায় স্বল্প ভাড়ায় পানাম নগরে পৌঁছানো সম্ভব।


প্রবেশ ফি: পানাম নগর – ২০ টাকা


জাদুঘর টিকিট: জনপ্রতি ৫০ টাকা


সময়সূচি 

পানাম নগর প্রতিদিন খোলা থাকে, তবে সোনারগাঁও জাদুঘর বৃহস্পতিবার বন্ধ।


সতর্কতা

শত শত বছরের পুরনো ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ভবনের ওপরে না ওঠার জন্য দর্শনার্থীদের সতর্ক করা হয়। ইতিহাস, স্থাপত্য আর হারিয়ে যাওয়া এক নগরীর গল্প জানতে চাইলে পানাম নগর এখনো বাংলার অতীতকে ছুঁয়ে দেখার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গন্তব্য।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News