ইউনেস্কোর ‘অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের’ স্বীকৃতি পেল টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, December 10, 2025
বাংলাদেশের শতাব্দীপ্রাচীন টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্প ইউনেসকোর 'অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের' (ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ) তালিকায় স্থান পেয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ইউনেস্কো কনভেনশনের চলমান ২০তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই কনভেনশনের আওতায় এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ একক নিবন্ধন। সভায় প্রথমবারের মত সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত চার বছরে এটি দ্বিতীয় নিবন্ধন।
সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য অসামান্য গৌরবের বিষয়। দীর্ঘ দুই শতকের বেশি সময় ধরে টাঙ্গাইলের তাঁতীদের অনবদ্য শিল্পকর্মের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটি। টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের সকল নারীর নিত্য পরিধেয়, যা এই শাড়ি বুনন শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।’
রাষ্ট্রদূত এই অর্জনকে বাংলাদেশের সকল তাঁতী ও নারীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, নথি প্রস্তুত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কনভেনশন সংক্রান্ত অভিজ্ঞ জনবল তৈরি করার মাধ্যমে আরও অনেক ঐতিহ্যের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
এর আগে, গত ৭ ডিসেম্বর আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের চলমান ২০তম সভা উদ্বোধন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকর। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক খালেদ এল. এনানি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ইউনেস্কো ঢাকা তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে জানায়, “এই স্বীকৃতি দক্ষিণ এশিয়ার বস্ত্রশিল্পে বিদ্যমান দীর্ঘ ঐতিহ্য ও সূক্ষ্ম কারুশৈলীর প্রতি আমাদের আঞ্চলিক যোগসূত্রকে গুরুত্বের সাথে প্রতিফলিত করে।”
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পীরা পারিবারিক তাঁতে সূক্ষ্ম নকশা, নরম বুননসহ তুলা ও সিল্কের শাড়ি তৈরি করে আসছেন। দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে উৎসব ও বিয়েতে টাঙ্গাইল শাড়ি দেশের মানুষের কাছে একটি পরিচিত ও প্রিয় ঐতিহ্য।
টাঙ্গাইল জেলা ও আশপাশের অঞ্চলের তাঁত-নির্ভর গ্রামগুলো হাজারো পরিবারের জীবিকা বহন করে। পরিবারভিত্তিক শিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে এই দক্ষতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে গেছে।
টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু নান্দনিকতার প্রতীক নয়; এটি গ্রামীণ জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।