কানাডায় বসবাসের অনুমতি হারাচ্ছেন ১০ লাখের বেশি ভারতীয়
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, January 06, 2026
ফাইল ছবি
কানাডায়
অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রভাব, দেশটিতে বসবাসের অনুমতি হারানোর ঝুঁকিতে
পড়েছেন ১০ লাখেরও বেশি ভারতীয়। পহেলা জানুয়ারি থেকেই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হয়।
ফেডারেল বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড
সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানায়, অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা কমানো এবং আবাসন
সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে
বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স ও
পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আর প্রাদেশিক বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন
লেটার জমা দিতে হবে না। ফলে এসব শিক্ষার্থী প্রাদেশিক কোটা থেকেও ছাড় পাচ্ছেন।
কিছু পিএইচডি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের
সুবিধাও দেওয়া হবে। এতে ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের প্রাথমিক খরচ কিছুটা কমবে
বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গত বছর ৩১ ডিসেম্বর থেকে নতুন স্টার্ট আপ ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে কানাডিয়ান সরকার।
যেসকল
উদ্যোক্তা সেই বছর নির্ধারিত সংস্থা থেকে কমিটমেন্ট সার্টিফিকেট পান, কেবল তারাই ৩০
জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ বছর আলাদা একটি পাইলট কর্মসূচি
চালুর কথা জানায় কানাডার সরকার। ফলে পূর্ব অনুমোদন না থাকা অনেক ভারতীয় স্টার্ট আপ
উদ্যোক্তাকে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
অন্টারিও প্রদেশে ‘অ্যাজ অব রাইট’ কাঠামো কার্যকর
হয়েছে। এর ফলে কানাডার অন্য প্রদেশের স্বীকৃত পেশাজীবীরা প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইয়ের
পর ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ছয় মাস পর্যন্ত কাজের সুযোগ পাবেন। প্রকৌশলী, স্থপতি ও
স্বাস্থ্য খাতসহ ৫০টির বেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ৩০০টির বেশি পেশায় এই নিয়ম
প্রযোজ্য হবে।
একই সঙ্গে অন্টারিওতে চাকরির বিজ্ঞাপনে
বাধ্যতামূলকভাবে ‘কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা’ চাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হলে সেটি জানানোও বাধ্যতামূলক
করা হয়। এতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত ভারতীয় পেশাজীবীরা উপকৃত হবেন বলে আশা করা
হচ্ছে।
আলবার্টা প্রদেশের রুরাল রিনিউয়াল স্ট্রিমেও কড়াকড়ি
আরোপ করা হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকতে হবে এবং আলবার্টায়
বসবাস করতে হবে। কমিউনিটি এন্ডোর্সমেন্টের সংখ্যায় সীমা নির্ধারণ করা হয়। নতুন
নিয়মে এন্ডোর্সমেন্ট লেটারের মেয়াদ থাকবে ১২ মাস।
এই পরিবর্তন আনার মধ্যেই কানাডায় অনিবন্ধিত
অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিবাসন পরামর্শক কানওয়ার সাইরাহ গণমাধ্যমে
জানান, ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়। ২০২৬
সালে আরও ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে।
তার ধারণা,
২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কানাডায় অনিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াতে পারে,
যার প্রায় অর্ধেকই হতে পারেন ভারতীয়।
তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট
প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা গতবছর
আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ শতাংশে। একই সময়ে আবেদনকারীর সংখ্যাও অনেকটাই কমে যায়।
কানাডার কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৫০টি
ভুয়া স্টাডি পারমিট আবেদন শনাক্ত করে, যার বড় অংশই ছিল ভারতীয়দের। গত বছর সব
আবেদনকারীর মধ্যে ১৪ হাজারেরও বেশি সন্দেহজনক ভর্তির অনুমোদনপত্র ধরা পড়ে।
দেশটির সরকার জানায়, চলতি বছরে স্থায়ী বাসিন্দা
গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারে নামানো হবে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের
মধ্যে মোট জনসংখ্যার মধ্যে অস্থায়ী বাসিন্দার হার ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে
আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যেই ভারত ও কানাডার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার
কথা শোনা যাচ্ছিল। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার
হত্যাকাণ্ড ঘিরে টানাপোড়েনের পর গত অক্টোবরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান
টাইমস, রয়টার্স, বিবিসি