লাগেজ চুরি ঠেকাতে বিমানবন্দরের কর্মীদের বডি ক্যাম সংযোজন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, December 17, 2025
ছবি: সংগৃহীত
যাত্রীদের লাগেজ কাটাছেঁড়া ও চুরি বন্ধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে যুক্ত সব কর্মীর জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির একাধিক ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ছাড়া বিমানবন্দরে কার্যরত সব এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মীদের প্রতিটি কার্যক্রম নিবিড়ভাবে নজরদারির আওতায় আনা হবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যবহৃত বডি ক্যামেরাগুলোতে আল্ট্রা-ওয়াইড ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত। এতে করে কোনো যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি ঢাকায় হয়েছে নাকি বিদেশ থেকে আসার আগেই হয়েছে—তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিতভাবে লাগেজ হ্যান্ডলিং এলাকায় প্রবেশের আগে কর্মীদের তল্লাশি ও নজরদারি করছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক অভিযোগ সেবাও চালু রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তাদের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ চুরির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, যাতে চুরির কোনো সুযোগই না থাকে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী যাত্রীরা দেশে পৌঁছে লাগেজ কাটা অবস্থায় পাওয়া কিংবা ভেতর থেকে জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। এসব ঘটনায় সাধারণত ইলেকট্রনিক সামগ্রী, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান পণ্য চুরির অভিযোগ বেশি পাওয়া যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ ভবিষ্যতে যেকোনো অভিযোগ তদন্তে দৃঢ় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।