Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা দুর্ঘটনায় ২ শিশুসহ ৫৩ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Tuesday, February 10, 2026
লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা দুর্ঘটনায় ২ শিশুসহ ৫৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী এক রাবারের ডিঙি নৌকা ডুবে দুই শিশুসহ মোট ৫৩ জন মারা গেছেন।


বিবিসির রিপোর্টার ও উপস্থাপক জিন ওটালরের লেখা প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, শুক্রবার দুর্ঘটনার পর মাত্র দুইজন নাইজেরিয়ান নারী জীবিত উদ্ধার হন।


সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জিন লেখেন, নৌকাটি উত্তর পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল জাওইয়া থেকে যাত্রা করার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর উল্টে যায়। পরে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ঐ দুই নারীকে উদ্ধার করে।


আইওএম জানায়, একজন নারী দুর্ঘটনায় তার স্বামীকে হারান। অপরজন জানান, তার দুই শিশুই মারা গেছেন।


নৌকাটিতে ভিন্ন ভিন্ন আফ্রিকান দেশের মোট ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। শুক্রবার ভোরে জুওয়ারার উত্তরে নৌকাটি পানিতে ভরে ডুবে যায়। আইওএমকে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানান, স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত আল জাওইয়া থেকে রাবারের ডিঙ্গিটি যাত্রা শুরু করে।


উদ্ধারের পর আইওএমের দল দুই নারীকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেয়। তবে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ পেতে কয়েক দিন সময় লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ঐ সংস্থা।


এই দুর্ঘটনার পর ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়লো। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন। শুধু জানুয়ারি মাসেই তীব্র শীতকালীন আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক নৌকাডুবিতে অন্তত ৩৭৫ জন মারা যান বা নিখোঁজ হন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


২০১১ সালে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুর পর থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাহারা-নিম্ন আফ্রিকার অভিবাসীদের যাত্রার প্রধান উদ্দেশ্যে লিবিয়া পৌঁছানো। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও বিপজ্জনক এই সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


আইওএম জানায়, মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারির চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে অনিরাপদভাবে নৌকায় মানুষ ভাসানোতে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক নৌকা ডুবে গেলেও পাচারকারীরা তা জানায় না। ফলে বহু মানুষ নিখোঁজ থাকে। তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের সমন্ধে কিছুই জানতে পারেন না।


সংস্থাটি মানব পাচার ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভাঙতে জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সমুদ্রে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে।


এদিকে যুক্তরাজ্য, স্পেন, নরওয়ে ও সিয়েরা লিওনসহ কয়েকটি দেশ লিবিয়ায় অভিবাসীদের বন্দিশালা বন্ধের দাবি জানায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসকল বন্দিশালায় অভিবাসীরা নির্যাতন, নিপীড়ন এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হন।


সূত্র: বিবিসি

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News