মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে প্রথম T-7A ‘রেড হক’ হস্তান্তর করল বোয়িং
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী (USAF) ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রথম T-7A রেড হক গ্রহণ করেছে। বিমানটি প্রথমে এয়ার এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের (AETC) অধীনে আনা হয়। জয়েন্ট বেস সান অ্যান্টোনিও–র্যান্ডলফে অবতরণের পর বিমানটি ১২তম ফ্লাইং ট্রেনিং উইংয়ের অন্তর্গত ৯৯তম ফ্লাইং ট্রেনিং স্কোয়াড্রনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অচিরেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
সিম্পল ফ্লাইং-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিমানটির আগমন অ্যাডভান্সড পাইলট ট্রেনিং সিস্টেমের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রথম বাস্তব অগ্রগতি। রেড হক যুগের সূচনা হয় Boeing-এর টেস্ট পাইলট স্টিভ শমিড্টের হাতে বিমানটি র্যান্ডলফে অবতরণের মধ্য দিয়ে। বিমানবাহিনী পরে এটির আনুষ্ঠানিক আগমন অনুষ্ঠান করবে।
বিমানবাহিনী জানিয়েছে, T-7A হলো প্রোগ্রামের অগ্রগতির বাস্তব প্রমাণ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ১৯৬০-এর দশকের T-38C প্রশিক্ষণ বিমানের বহুলপ্রয়োজনীয় বিকল্প। পুরোনো প্রশিক্ষণ বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় লাগাতার বাড়ছে, যা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরদার করেছে।
নতুন এই বিমানটি গ্রাউন্ড-বেসড ট্রেনিং, মেইনটেন্যান্স ট্রেনার এবং লাইভ-ভার্চুয়াল কনস্ট্রাকটিভ সিমুলেশনের সঙ্গে একীভূত করা হবে—যা শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেন্সর-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ করে তুলবে।
AETC ২০২৭ সালের আগস্টে প্রাথমিক অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এসময় ৯৯তম স্কোয়াড্রনে ১৪টি T-7A রেড হক থাকবে। ওপেন-আর্কিটেকচার অ্যাভিওনিক্স ও ফ্লাই-বাই-ওয়্যার কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রশিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের জন্য কাস্টমাইজড প্রশিক্ষণ প্রদান সহজ হবে।
যদিও বিমানটির প্রস্তুতি ও উৎপাদন শুরুর সিদ্ধান্তে দেরি হয়েছে, তবুও পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সাল থেকে র্যান্ডলফ ঘাঁটিতে প্রথম ধাপের পূর্ণ সক্ষমতা দেখা যাবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় শত শত বিমান ও ডজনখানেক সিমুলেটর যুক্ত করে পুরোনো T-38 বহরকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য তথ্য-নির্ভর দক্ষতা অপরিহার্য হওয়ায় এই প্রকল্পের গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। যথাসময়ে সমন্বয় সফল হলে, T-7A রেড হক পুরো যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রস্তুতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।