মার্কিন ভিসা বন্ড করাতে চারজনের পরিবারের খরচ ৬০,০০০ ডলার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, January 07, 2026
ফাইল ছবি
২১
জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নীতিমালায় চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ
৬০ হাজার মার্কিন ডলারের ভিসা বন্ড করাতে হতে পারে।
নতুন
নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বি১ বা বি২ ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করা
প্রত্যেক সদস্যকে আলাদাভাবে বন্ডের জন্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার দিতে
হবে। ফলে চারজনের একটি পরিবার যদি সর্বোচ্চ বন্ড স্তরে পড়ে, তাহলে ভিসা পাওয়ার আগে
মোট ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখতে হবে।
নাগরিকদের
জন্য ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসায় বাধ্যতামূলক আর্থিক বন্ড চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের
স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ৩৮টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশও আছে। দূতাবাসের কনস্যুলার
কর্মকর্তারা ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় আবেদনকারীর ঝুঁকি বিবেচনা করে
বন্ডের মূল্য নির্ধারণ করবেন।
এই
সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে। শিক্ষা
সফর, চিকিৎসা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহীদের জন্য খরচ এখন অনেক
বেড়ে গেছে। বন্ডের পাশাপাশি আবেদন ফি, সাক্ষাৎকারের জন্য যাওয়া-আসার খরচ এবং জরুরি
কাগজপত্র প্রস্তুতির খরচও যোগ হচ্ছে।
মার্কিন
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, বন্ড জমা দিলেই যে ভিসা পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা
নেই। অর্থাৎ ভিসা না পেলেও বড় অঙ্কের অর্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কেবল
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ভিসাধারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ
ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করলেই বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। এছাড়া ভিসাধারীরা শুধু
তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ও বের হতে পারবেন।
নতুন
নিয়মে একবার প্রবেশের অনুমতিই দেওয়া হয়। ঐ দেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকা যাবে। এই সময়ের
বেশি থাকলে বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে বন্ডের পুরো অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।
মানবাধিকার
সংগঠনগুলো এই নীতিকে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা
করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়, ভ্রমণকারীদের ভিসার অপব্যবহার ও নির্ধারিত সময়ের
বেশি অবস্থান করা ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র:
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট, রয়টার্স