প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার সাত বিমানবন্দর বন্ধ, নিহত বেড়ে ১৩২
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, August 11, 2026
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সোমবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (এরোসিভিল) সাতটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে।
কলম্বিয়ার রাজধানী নগরীগুলোর সংগঠনের সোমবার সন্ধ্যার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫৭০ জন। এর মধ্যে শুধু পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরাতেই মারা গেছেন ৬০ জন। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যে সাতটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে সেগুলো হলো পেরেইরার মাতেকানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মানিসালেসের লা নুবিয়া, আরমেনিয়ার এল এদেন, কিবদোর এল কারানিয়ো, কার্তাগোর সান্তা আনা, বুয়েনাভেন্তুরার হেরার্দো তোবার লোপেস এবং কালির আলফোনসো বনিয়া আরাগন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর মধ্যে কালি বিমানবন্দরে সেদিন প্রায় ১৫০টি ফ্লাইট চলাচলের কথা ছিল। এরোসিভিল এই বিমানবন্দরটিতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর দেওয়ার পর তা বন্ধের তালিকায় যুক্ত করা হয়, ফলে এটিই এখন পর্যন্ত বন্ধ হওয়া সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সেবা সংস্থার তথ্যমতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল পশ্চিমে চোকো প্রদেশের প্রত্যন্ত জনপদ সান হোসে দেল পালমারে। ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরই ৫.০ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয় বলে ইউএসজিএস জানিয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সেবা সংস্থা এটিকে গত এক দশকে দেশটিতে আঘাত হানা সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প বলে বর্ণনা করেছে।
প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং জানিয়েছেন, সান হোসে দেল পালমারে ত্রাণ কার্যক্রমের দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কমান্ড কেন্দ্র গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজধানী বোগোতায় কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র কার্লোস এফ গালান।
এরোসিভিল জানিয়েছে, সারা দেশে দশটির বেশি বিমানবন্দরে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে যাতায়াতের ফ্লাইট থাকা যাত্রীদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলোতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা এটিকে কলম্বিয়ার ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত এই কম্পন অনুভূত হয়েছে, যে দেশটি গত জুনে নিজেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কবলে পড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির মুখোমুখি হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স/সিবিএস নিউজ/সিবিসি নিউজ/সিএনএন