রাঙামাটিতে কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?
হ্রদ ও পাহাড়ে ঘেরা রাঙামাটি ভ্রমণে এসে অনেক পর্যটকই দ্বিধায় পড়েন, কি দেখবেন? কোথায় থাকবেন বা খাবেন? ভ্রমন পিপাসুদের জন্য রাঙামাটি ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য থাকছে এখানে। ঢাকা থেকে রাঙামাটি আসার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম বাস। আরামবাগ, সায়েদাবাদ, গাবতলী, কমলাপুর, পান্থপথ, ফকিরাপুল থেকে বাস পাওয়া যায়। শ্যামলী, সেন্টমার্টিন, ইউনিক, ডলফিন, গ্রীনলাইন, রবি এক্সপ্রেস, এভারগ্রিন, রিল্যাক্স পরিবহনের বাস নিয়মিত চলে।
এসি ভাড়া ১৭০০ টাকা, নন-এসি ৮৪০ টাকা। রাতে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বেশিরভাগ বাস ছাড়ে। ভ্রমণের সময় প্রায় ৭ ঘণ্টা। সকালেও কিছু বাস ছাড়ে, তবে আগেভাগে টিকিট কাটা জরুরি।
চট্টগ্রাম হয়ে রাঙামাটি আসার বিকল্প রুটও রয়েছে। ঢাকা থেকে বিমানে বা ট্রেনে চট্টগ্রাম এসে সেখানকার বালুচরা বাসস্টেশন থেকে ‘পাহাড়িকা’ পরিবহনের নন-স্টপ বাসে ২ ঘণ্টায় রাঙামাটি পৌঁছানো যায়। লোকাল বাসে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। ভাড়া যথাক্রমে ১৭০ ও ১৫০ টাকা।
ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা রেন্ট-এ-কারেও যাওয়া যায়
রাঙামাটি পৌঁছে থাকার জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যবস্থা হলো হাউজবোট। হ্রদে ভেসে থাকা এসব নৌবাড়ি এখন অন্তত ১৫টি। প্রমোদিনী, রাঙাতরী, সুখেরতরী, লুসাই দ্য ওয়াটার ভিলা, মাওরুম, স্বপ্নডিঙ্গি, রয়েল অ্যাডভেঞ্চার, আর্ক দ্য কাপ্তাই, ডিভাইন ক্রাফট, লেক অ্যাম্বাসেডরসহ বেশ কিছু হাউজবোট জনপ্রিয়। ভাড়া ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে।
অধিকাংশ হাউজবোটের বুকিং হয় ফেসবুক পেজের মাধ্যমে
এছাড়া শহরের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা রিসোর্টগুলোও বেশ জনপ্রিয়। মায়াবী, বার্গি, রাইন্যাটুগুন, ওয়াইল্ডউড, লেকশোর, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, নীলাঞ্জনা, পলওয়েল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য। এসব রিসোর্টে ভাড়া ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
যারা কম খরচে থাকতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে মাঝারি মানের বহু হোটেল। পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল নাদিশা, সোনার বাংলা, সুফিয়া, গ্র্যান্ডমাস্টার, সাংহাই, কসমস, জুম প্যালেস, স্কয়ার পার্ক, ইপসা—এসব হোটেলে ভাড়া ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।
শহর থেকে একটু দূরে থাকতে চাইলে সাজেক কিংবা কাপ্তাই যেতে পারেন। সাজেকে বর্তমানে প্রায় ৯৮টি কটেজ আছে, যেগুলোর ভাড়া দেড় হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। কাপ্তাইয়েও কিছু ভালো মানের কটেজ ও রিসোর্ট আছে।
রাঙামাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হ্রদের নৌভ্রমণ। শহরের পর্যটন ঘাট, তবলছড়ি, ফিশারিঘাট, রিজার্ভবাজার, সমতাঘাট ও শিল্পকলা ঘাট থেকে পর্যটকবাহী বোট ছাড়ে। ৫ ঘণ্টার নৌভ্রমণে খরচ পড়ে ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ভ্রমণে দেখা যাবে সুবলং ঝরনা, মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি, ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি, মায়াবী আইল্যান্ডসহ নানা জায়গা। কাপ্তাই রোডে ঘুরতে যেতে পারেন, যেখানে একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে হ্রদ—দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
আরও সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন রাজবনবিহার, পলওয়েল পার্ক, আসামবস্তি সেতু কিংবা শহীদ মিনার চত্বরে। তৃতীয় দিন সাজেক, কাপ্তাই কিংবা লংগদু ভ্রমণেও যেতে পারেন।
খাবারের ক্ষেত্রে রাঙামাটির স্থানীয় পাহাড়ি খাবারের স্বাদ না নিলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শহরের স্টেডিয়াম এলাকা ও বিভিন্ন রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে মিলবে এ স্বাদ। দাম হাতের নাগালে। বাঙালি খাবারের জন্য শহরে বহু রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
একটি দম্পতির দুই রাত তিন দিনের রাঙামাটি ভ্রমণ ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যেই সেরে ফেলা সম্ভব। হ্রদ-পাহাড়ের অপরূপ মায়ায় ঘেরা রাঙামাটি আপনাকে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা দেবে।