জাপানের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
রাশিয়ার কাছে জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুর্ঘটনা, আহত ১
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, December 31, 2025
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো থেকে জাপানের টোকিওগামী জাপান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর তীব্র টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে। এতে এক কেবিন ক্রু গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর জাপানের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
গত ২২ ডিসেম্বর সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করা জাপান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৫৭–এ এই ঘটনা ঘটে। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটিতে সে সময় ১৮৫ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৮ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এবং রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের দক্ষিণে প্রায় ৬৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনির কবলে পড়ে। তবে ঘটনার পরও উড়োজাহাজটি যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর নিরাপদে টোকিওতে অবতরণ করে।
জাপানের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে, যার ফলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের ডান পায়ের মধ্যভাগের একটি হাড় (রাইট মিডিয়াল কিউনিফর্ম) ভেঙে যায়। টার্বুলেন্সের সময় তিনি ছিটকে পড়ে এই আঘাত পান।
তদন্তকারীরা জানান, ‘সিটবেল্ট বাঁধুন’ নির্দেশনা জ্বালানো হওয়ার পর ওই কেবিন ক্রু শৌচাগার পরীক্ষা করে আসছিলেন এবং নিজ আসনে ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা জাপান ট্রান্সপোর্ট সেফটি বোর্ড উড়োজাহাজের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, কেবিন নিরাপত্তা পদ্ধতি এবং সে সময় টার্বুলেন্স পূর্বাভাস ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করছে। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লিয়ার এয়ার টার্বুলেন্স—যা দৃশ্যমান মেঘ বা ঝড় ছাড়াই হঠাৎ সৃষ্টি হয়—বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের টার্বুলেন্স আকাশপথে আঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ, বিশেষ করে কেবিনে চলাচলরত ক্রু সদস্যদের জন্য।
জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং আহত ক্রু সদস্যকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।
সূত্র: সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল