শাহ আমানত বিমানবন্দরে যৌথ অভিযানে ৪৪০ কার্টন সিগারেট জব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, January 01, 2026
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতের অভিযানে প্রায় ৪৪০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করে, যার মোট রাজস্ব মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টা ৫২ মিনিটে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে মিনহাজুল করিম সজীব নামের এক যাত্রী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পূর্বপ্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও এনএসআইয়ের যৌথ দল তার লাগেজ তল্লাশি করে ২০০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করে।
এছাড়া একই সময় আন্তর্জাতিক আগমনী হলের লাগেজ বেল্টের ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ২৪০ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা সিগারেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪০ কার্টন।
হিসাব অনুযায়ী, যাত্রীর কাছ থেকে জব্দ করা ২০০ কার্টন সিগারেটের রাজস্ব মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। অপরদিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া ২৪০ কার্টন সিগারেটের বাজার মূল্য প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা মোট রাজস্ব মূল্যসহ দাঁড়ায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, উদ্ধারকৃত সিগারেটগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রী মিনহাজুল করিম সজীব (ফটিকছড়ির বাসিন্দা) কে প্রাথমিকভাবে মৌখিক সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এখানে একের পর এক বড় চালান জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে শারজাহ থেকে আগত এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কার্টন ইজি লাইট ও মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১২ লাখ টাকা। একই বছরের মে মাসে নামহীন পার্সেলের মাধ্যমে আসা একটি বড় চালান থেকে প্রায় ১২০০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হলেও সে সময় কাউকে আটক করা যায়নি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের শেষার্ধে বিভিন্ন অভিযানে কাস্টমস ও এনএসআই যৌথভাবে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সিগারেট জব্দ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব বিদেশি সিগারেট সাধারণত দুবাই, ওমান ও শারজাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রীদের মাধ্যমে দেশে আনা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চ শুল্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যেই চোরাকারবারিরা ব্যাগেজ রুলস লঙ্ঘন করে এ ধরনের সিগারেট বহন করে থাকে।