শীতকালীন ঝড় ডেভিনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১,৫০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, December 27, 2025
ছবি: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
শীতকালীন ঝড় ‘ডেভিন’-এর প্রভাবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বিমান চলাচল। ছুটির মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে এদিন দেড় হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং বিলম্বিত হয় আরও সাত হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪ মিনিট পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৩টা ৪ মিনিট) মোট ১ হাজার ৮০২টি ফ্লাইট বাতিল এবং ২২ হাজার ৩৪৯টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। সন্ধ্যার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবহাওয়া আরও খারাপ হলে বাতিল ও বিলম্বের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নিউইয়র্ক সিটির তিনটি প্রধান বিমানবন্দর। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৭০টি ফ্লাইট বাতিল ও ২০০টি বিলম্ব হয়। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হয় ২৩০টি ফ্লাইট। একই সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয় লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরেও। এই তিনটি বিমানবন্দরেই শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের অর্ধেকের বেশি সংঘটিত হয়।
বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল করে জেটব্লু এয়ারওয়েজ। সংস্থাটি ২২৯টি ফ্লাইট বাতিল করে। ডেল্টা এয়ার লাইন্স বাতিল করে ২৪১টি ফ্লাইট। রিপাবলিক এয়ারওয়েজ ১৮০টি এবং সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স ১৫১টি ফ্লাইট বাতিল করে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স পৃথকভাবে প্রায় ১০০টি করে ফ্লাইট বাতিল করে।
জেটব্লুর এক মুখপাত্র জানান, শীতঝড় ডেভিনের কারণে সংস্থাটি শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে প্রায় ৩৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার বেশিরভাগই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রুটে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত শীতঝড় সতর্কতা জারি করে। পূর্বাভাসে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটি ও দক্ষিণ কানেকটিকাট এলাকায় সর্বোচ্চ ২৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। সবচেয়ে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা ছিল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪ কোটির বেশি মানুষ শীতঝড় সতর্কতা বা আবহাওয়া সতর্কতার আওতায় ছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় ৩ কোটি মানুষ বন্যা ও ঝড় সতর্কতার মধ্যে ছিলেন। নিউইয়র্ক সিটিতে রাতভর সর্বোচ্চ ২৫ সেন্টিমিটার তুষারপাতের আশঙ্কা করা হয়, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ হতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল শুক্রবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। নিউ জার্সি ও পেনসিলভানিয়ায় আন্তঃরাজ্য মহাসড়কে বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস গাড়িচালকদের দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ অথবা গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ জানান। পর্যাপ্ত তুষার জমলেই সড়ক পরিষ্কারে নামার প্রস্তুতি নেয় স্নো প্লাউ দল।
এদিকে, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে আমেরিকান, ইউনাইটেড, ডেল্টা, সাউথওয়েস্ট ও জেটব্লুসহ বড় বিমান সংস্থাগুলো পরিবর্তন ফি মওকুফ করেছে। যাত্রীরা ডিসেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত বিনা জরিমানায় ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও ব্যস্ত ক্রিসমাস মৌসুমে আসন সংকট রয়ে গেছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) পূর্বাভাস দিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ফিলাডেলফিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড স্টপ বা বিলম্ব দেখা দিতে পারে।
এটি চলতি মৌসুমে নিউইয়র্ক সিটির দ্বিতীয় বড় তুষারপাত। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর শহরে উল্লেখযোগ্য তুষারপাত হয়েছিল। শুক্রবারের তুষারপাত ২০২২ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম উপকূলে শক্তিশালী ঝড়ে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় গত ৫৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভেজা বড়দিনের মৌসুম দেখা দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে বৃহস্পতিবার দমকল কর্মীরা শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেন।
সূত্র: ফ্লাইটঅ্যাওয়ার, রয়টার্স, বিবিসি, আল জাজিরা, ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস