Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

শরণার্থী সংখ্যা সীমিত করার আইন পাশ করলো কানাডা

শরণার্থী সংখ্যা সীমিত করার আইন পাশ করলো কানাডা

ফাইল ছবি

শরণার্থী সুরক্ষা সীমিত করে নতুন বিতর্কিত আইন পাশ করেছে কানাডা। দুই ডজনেরও বেশি মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা এই আইনের সমালোচনা করে জানান যে এ কারণে হাজার হাজার নিরাপত্তা চাওয়া ব্যক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।


শুক্রবার (২৭ মার্চ), বিল সি-১২, বা ‘স্ট্রেংথেনিং ক্যানাডা’স ইমিগ্রেশন সিস্টেম অ্যান্ড বর্ডারস অ্যাক্ট’ রয়েল অ্যাসেন্ট বা রাজকীয় অনুমোদন পায়।


উল্লেখ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো কমনওয়েলথ দেশগুলোতে কোনো আইন পাশ করার জন্য যুক্তরাজ্যের রানী বা রাজার প্রতিনিধি হিসেবে ঐ সকল দেশে নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেলের কাছ থেকে রাজকীয় অনুমোদন নিতে হয়। কারণ মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা মূলত রাজা বা রাজার প্রতিনিধির কাছেই ছিল। বর্তমানেও কমনওয়েলথর আওতায় থাকা ঐ দেশগুলোর সংসদ বা অন্যান্য আইন প্রণয়ন সংস্থা কোনো আইন প্রণয়ন করলে তা কার্যকর হওয়ার জন্য রানী বা রাজার প্রতিনিধির অনুমোদন প্রয়োজন। ১৭০৭ সালের ইউনিয়ন সংবিধানের পর থেকে এই প্রথা সংবিধানিক নিয়মে পরিণত হয়। তবে বর্তমানে এটি মূলত প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা। বাস্তবে যুক্তরাজ্যের রানী, রাজা বা গভর্নর-জেনারেল আইন পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন না।


গত বছরের মে মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম কানাডার অভিবাসন এবং শরণার্থী আশ্রয়ের নীতিকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিল সি-২ প্রস্তাব করে। নতুন আইন মূলত এই প্রস্তাবিত আইনেরই সংশোধিত সংস্করণ।


সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া


অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডা, কানাডিয়ান সিভিল লিবারটিস অ্যাসোসিয়েশন এবং কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিস সহ ২৮টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার সংস্থা শুক্রবার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা আইনটিকে ‘কানাডায় শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারের উপর বড় ধরনের আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।


সংস্থাগুলো জানায়, বিল সি-১২ বর্তমান ও ভবিষ্যতের সরকারের জন্য বিপজ্জনক পথ বানাচ্ছে। এতে করে শরণার্থী সুরক্ষা চাওয়ার ক্ষমতা সীমিত হবে। অভিবাসন সম্পর্কিত নথি বাতিল করা সহজ হবে। এছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য দেশের ভেতরে ও বাইরে ফাঁস করে দেওয়ারও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই আইনের হাজার হাজার মানুষ নির্যাতন, প্রতিহিংসা এবং অনিশ্চয়তার শিকার হবেন।


সবচেয়ে বিতর্কিত ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ প্রথম কানাডায় গিয়ে এক বছরের বেশি সময় থাকার পর আশ্রয়ের জন্য আবেদন করে তবে তিনি আদালতে বা কমিটিতে সম্পূর্ণ সুযোগ পাবেন না। ফলে নিজের মামলা উপস্থাপন করে প্রমাণও দেখাতে পারবেন না। কেউ যদি কানাডা ত্যাগ করে অন্য দেশে থেকে আবারও কানাডায় ফিরে আসতে চান তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।


কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে যদি কেউ সরকারি অনুমোদিত প্রবেশপথ ‘অফিসিয়াল পোর্টস অফ এন্ট্রি’ ব্যবহার না করে প্রবেশ করে তাদেরকে ১৪ দিনের মধ্যে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের পাওয়ার আবেদন করতে হবে। নইলে তাদের ক্ষেত্রেও ঐ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।


নিয়ম না মানলে আদালতের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। যারা নিয়ম মানবে না তাদের প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট বা পূর্ব-প্রত্যাহার ঝুঁকি মূল্যায়ন করে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। পূর্ব-প্রত্যাহার ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বুঝা যাবে যে দেশে ফিরলে শরনার্থী হিসেবে আবেদনকারীরা কোনো বিপদে পড়বে কি-না। কিন্তু কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আবেদনকারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।


কাগজপত্র বাতিল ও সরকারি ক্ষমতা


এই আইনবলে কানাডা সরকার স্থায়ী বা অস্থায়ী ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা স্টাডি পারমিট বাতিল করতে পারবে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গর্ভনর-ইন-কাউন্সিলের এর অনুমোদন নিয়ে সংসদকে জানাতে হবে।


উল্লেখ্য, গর্ভনর-ইন-কাউন্সিল হলো কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান বা গভর্নর জেনারেল সমতুল্য প্রতিনিধি বা প্রতিনিধি পরিষদ। তারা সরকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে ঐ কাউন্সিল।


আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে কানাডিয়ান সরকার জানায়, অভিবাসন ব্যবস্থার চাপ কমাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এই আইন পাশ করা হয়েছে।


অভিবাসন মন্ত্রী লেনা ডিয়াব বলেন, “বিল সি-১২ পাশ হওয়ায় আমরা এমন কার্যকর উপায় শক্তিশালী করছি যা আমাদের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থাকে ন্যায়সঙ্গত, দ্রুত এবং সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।”


শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক এই আইন সমন্ধে সতর্ক করে বলেন, শরণার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাবে।


সম্প্রতি এক জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি কানাডাকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাওয়া সকল ব্যক্তির ন্যায্য, কার্যকর প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের সুযোগ নিশ্চিত করতে বলে।


শরণার্থী অধিকারকর্মীরা বলছেন, তারা রাজকীয় অনুমোদনের পরেও আইনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।


দেখা গেছে, এই আইন শরণার্থী হিসেবে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করেছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে। নকল আব্দেন বাদ দেওয়া সহজ হবে। সম্পূর্ণ মামলা যাচাই নিশ্চিত করা যাবে।


তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন যে এই আইন শরণার্থীদের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


সূত্র: আল জাজিরা, ইকোনমিক টাইমস, জুরিস্ট

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News