টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি নিশ্চিতে লেভি আরোপ করবে সিঙ্গাপুর
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, February 16, 2026
কোলাজ: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
পরিবেশবান্ধব বিমান জ্বালানি উৎপাদনে সহায়তা দিতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রথমবারের মতো টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) লেভি চালু করতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর। এর ফলে যাত্রীদের প্রতি টিকিটে ৭৫ সেন্ট থেকে ৩২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
চাঙ্গি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই লেভি প্রযোজ্য হবে। গত বছর এই বিমানবন্দর দিয়ে ৭ কোটি যাত্রী ভ্রমণ করে রেকর্ড গড়েছেন। ভ্রমণের দূরত্ব ও কেবিনের শ্রেণি অনুযায়ী যাত্রীদের অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ভ্রমণকারী ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা সর্বনিম্ন ১ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৭৫ মার্কিন সেন্ট) পরিশোধ করবেন। অন্যদিকে আমেরিকাগামী প্রিমিয়াম কেবিনের যাত্রীদের দিতে হবে ৪১ দশমিক ৬০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৩২ মার্কিন ডলার)।
সিঙ্গাপুরের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান টেকসই কর্মকর্তা ড্যানিয়েল এনগ এপিকে জানান, এই লেভি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে এভিয়েশন খাতের সব অংশীদার পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে পারে। আবার ব্যয়ও যেন সহনীয় থাকে। স্বচ্ছতার নিশ্চিতে পরিকল্পিত এই লেভি টিকিট ও এয়ার কার্গো চুক্তিতেও উল্লেখ করা হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ধীরে ধীরে টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি উৎপাদনের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। কারণ সিঙ্গাপুরের তুয়াস জেলায় অবস্থিত ফিনল্যান্ডের মালিকানাধীন প্রধান এসএএফ রিফাইনারির নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি নেস্টে। চলতি বছরে নতুন প্রজন্মের আরেকটি স্থাপনার নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে। জেটব্লু এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মতো বড় বড় এয়ারলাইন্সের সাথে ঐ কোম্পানির সরবরাহ চুক্তি রয়েছে।
গতবছর ব্যাংচাক গ্রুপের (ব্যাংচাক কর্পোরেশন পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড) সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএসজিএফ কোম্পানি লিমিটেড ব্যাংককে নতুন এসএএফ প্ল্যান্ট চালু করেছে। মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম গত বছর নিজস্ব উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইন্দোনেশিয়াও বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
শিকাগোভিত্তিক কোম্পানি এথার ফুয়েলসের প্রতিনিধি ট্যাট চুয়ান গোহ এপিকে জানান, এই অঞ্চলে উৎপাদন সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে। কৃষি ও বনজ বর্জ্যের সহজলভ্যতা এই খাতে বড় আকারে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্সের তথ্যমতে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই অঞ্চল প্রতিদিন প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেল এসএএফ উৎপাদনে সক্ষম হবে। গত বছর ভিয়েতনাম নিজস্ব উৎপাদিত এসএফ মিশ্রণ ভিয়েতনামের বেসরকারি কোম্পানি ভিয়েতজেট এয়ারকে সরবরাহ করে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া নিজ দেশের জাতীয়পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি ইউরোপীয় গ্রাহকদের কাছেও প্রথম ডেলিভারি দেয়।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ২.৫ শতাংশের জন্য দায়ী এভিয়েশন খাত। উড়োজাহাজের মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ২০৫০ সালের মধ্যে কমিয়ে শূন্যে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন। এসএএফ ব্যবহার করলে শিল্পখাতের প্রায় ৬৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।
তবে ২০১৮ সালে বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক এসএএফ উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর পেছনের কারণ হলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নীতির পরিবর্তন।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) / কেডিভিআর