৮ দিনে ঢাকার ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, March 07, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটময় পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৭টি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় ৮ম দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা এয়ারপোর্ট) থেকে মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ দফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে উপসাগরীয় গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের আকাশযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ২ মার্চ বাতিলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬টিতে। এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা এটা। ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এরপর ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৭ মার্চ মধ্যরাতের পর থেকে আরও ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এয়ার আরাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।
এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, শারজাহভিত্তিক এয়ার আরাবিয়ার ৬টি, বাহরাইনভিত্তিক গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রীর ভ্রমণ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় অনেকের চাকরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত থাকায় ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে কবে চালু হবে তা এখনো জানা যায়নি। বেবিচক যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তারা।
দীর্ঘ সময় ধরে আকাশযাত্রা ব্যাহত হলে এয়ারলাইন ও যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতিও বাড়তে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছেন এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা।