হাতিরঝিল: রাজধানীর হৃদয়ে নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, March 07, 2026
কোলাজ: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
হাতিরঝিল রাজধানী ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় ও নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র। আধুনিক নকশা, মনোরম পরিবেশ এবং ঝিলের সৌন্দর্যের কারণে এটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নগরবাসীর প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সেতু, সাদা পাথরের নকশা করা সিঁড়ি, সাজানো গোছানো রাস্তা এফডিসির মোর থেকে রমপুরা ঝিল এলাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ঝিলের স্বচ্ছ পানিতে পালতোলা নৌকা বা জলযানে ভ্রমণের সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সুন্দর সময় কাটাতে পারেন। ভবিষ্যতে এই এলাকায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, শিশুদের বিনোদন পার্ক, আন্তর্জাতিক মানের থিয়েটার এবং শরীরচর্চা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
হাতিরঝিল নামের উৎপত্তি
ইতিহাস অনুযায়ী, একসময় ঢাকার পিলখানা থেকে বেগুনবাড়ী ঝিল পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক দিয়ে হাতি চলাচল করত। সেই কারণেই আশপাশের অনেক এলাকার নামের সঙ্গে “হাতি” শব্দটি যুক্ত হয়েছে—যেমন এলিফ্যান্ট রোড ও হাতিরপুল। ধারণা করা হয়, অতীতে হাতিদের গোসল করানোর জন্য এই ঝিল ব্যবহার করা হতো। সেখান থেকেই এই জলাশয়ের নাম হয়ে যায় হাতিরঝিল।
হাতিরঝিলে নৌভ্রমণ
হাতিরঝিলের স্বচ্ছ পানিতে চালু রয়েছে যাত্রীবাহী জলবাস বা ওয়াটারবাস। এটি একদিকে যেমন মনোরম নৌভ্রমণের সুযোগ দেয়, অন্যদিকে নগরবাসীর যাতায়াতকেও সহজ করেছে। এই জলপথে গুলশান থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত যাতায়াত করা যায়। বর্তমানে পাঁচটি ওয়াটারবাস চালু রয়েছে এবং প্রতিটি নৌযানে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন।
চক্রাকার বাস সার্ভিস
হাতিরঝিল এলাকায় দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে চক্রাকার বাস সার্ভিস। এই বাসগুলোতে সাধারণত ৩২ থেকে ৪৬টি আসন থাকে এবং যাত্রীরা মুখোমুখি বসতে পারেন। বাসটি কাওরান বাজারের এফডিসি এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে রামপুরা ও বনশ্রী ঘুরে আবার একই স্থানে ফিরে আসে। পুরো হাতিরঝিল এলাকা ঘুরে দেখতে এই বাসে ভাড়া লাগে মাত্র ৩০ টাকা।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো এলাকা থেকে সহজেই হাতিরঝিলে পৌঁছানো যায়। শহরের বিভিন্ন রুটের বাস, সিএনজি অটোরিকশা বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সহজেই এখানে আসা সম্ভব। তাই অবসর সময়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে হাতিরঝিল হতে পারে একটি আদর্শ গন্তব্য।