আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, রেমিট্যান্স ২৫.৭৪ বিলিয়ন ডলার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, October 14, 2026
ছবি এআই
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৯টি দেশে কাজ নিয়ে গেছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন বাংলাদেশি কর্মী। একই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৫৭৪ কোটি) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে, ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন। এরপর রয়েছে সিঙ্গাপুর (৫৩ হাজার ২৯৭ জন), কাতার (৪২ হাজার ৫১৬), মালদ্বীপ (২৪ হাজার ৭০), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০ হাজার ৬৬১) ও কুয়েত (২০ হাজার ২৫৪)। জর্ডানে গেছেন ১০ হাজার ১০ জন, ইতালিতে ৭ হাজার ৭৭, পর্তুগালে ৫ হাজার ৩৮৬ ও ইরাকে ২ হাজার ৮৭৮ জন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, মাসওয়ারি রেমিট্যান্সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে মার্চে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। সবচেয়ে কম এসেছে সেপ্টেম্বরে, ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে এসেছে ৯৯ কোটি ডলার।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে চাহিদা কমেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজার চালু, নতুন বাজার খোঁজা এবং বিদ্যমান বাজারে কর্মী বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর প্রশিক্ষণ দেশজুড়ে বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বাসসকে বলেন, যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কর্মী গেছেন। সেখানে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার বাজার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কলিং ভিসায় কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে, বলছে মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পাঁচ বছর মেয়াদি শ্রম সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। নতুন চুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি কর্মী পাঠানোর আশা করছে বাংলাদেশ।
আগ্রহ দেখাচ্ছে যেসব দেশ
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমান বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশিকে পরিবারসহ নিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
গত মে মাসে প্রবাসী ভবনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং খাতে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয় বলছে, কাতার নিজেরাই প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত কর্মী নেবে। এ জন্য বাংলাদেশ দেশটিকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) তালিকা দিয়েছে।
এ ছাড়া দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি ৬ হাজার দক্ষ চালক নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বাংলাদেশি কর্মীদের দুবাই যাওয়ার খরচ কমানোর কথা বলেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির এখনো কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। তবু প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নতুন করে কর্মী পাঠাতে কাজ চলছে। তিনি আশা করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা বাড়বে। প্রবাসী কার্ড দ্রুত প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দিতেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।