রিয়াদে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Tuesday, October 13, 2026
সৌদি আরবে চলমান সংঘাতে আহত হয়ে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে-আইসিইউ রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ- বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: নতুন পথের সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আর ২৪ জনের বেশি রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।”
চলমান সংঘাতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।
শামা ওবায়েদ বলেন, “আমরা আশা করি, পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে। কারণ, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শামা বলেন, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছেন।”
তবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার কোনো ইঙ্গিত সরকার পায়নি বলে জানান তিনি।
শামা বলেন, “যুদ্ধের কারণে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশকেই একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।”
সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ও বিকল্প পরিকল্পনা বাংলাদেশকে পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে উঠতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে স্বীকার করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অঞ্চলটিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা চাকরি হারানো ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, চাকরি হারিয়ে ইতোমধ্যে কিছু অভিবাসী কর্মী দেশে ফিরেছেন। অন্যদিকে, অনেকে ওই অঞ্চলে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।
শুধু সৌদি আরবেই ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন উল্লেখ করে শামা বলেন, চলমান সংঘাত বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দক্ষ ও বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সৌদি আরবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা, বিশেষ করে দেশটির বিমান চলাচল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এসব হামলার কারণে বাংলাদেশ ও রিয়াদের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে এবং অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারলাইনসের মোট ১০টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রীর।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা ফেলো আয়েশা বিনতে তৌহিদ, গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির, গবেষণা ফেলো এ এস এম তারেক হাসান সেমুল এবং গবেষণা পরিচালক ড. সুফিয়া খানম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান। তিনি সেমিনারের সভাপতিত্বও করেন।