বিমান নিরাপত্তা জোরদারে বেবিচকের তিন দিনব্যাপী কর্মশালা সমাপ্ত
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Tuesday, April 07, 2026
ছবি: বেবিচক
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগ সোমবার তিন দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
৫ থেকে ৭ এপ্রিল বেবিচকের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিল বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য Supplementary Station Procedure (SSP) প্রস্তুতি।
বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা ও কার্গো পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের মোট ৬৫ জন প্রতিনিধি এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন, বেবিচক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
অংশগ্রহণকারীদের বেবিচকের মডেল এসএসপি কাঠামো, নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা এবং দাখিল ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
এসএসপি কেন জরুরি
বাংলাদেশের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম (NCASP) অনুযায়ী, দেশে পরিচালনাকারী সকল বিদেশি বিমান অপারেটরের জন্য প্রতিটি স্টেশন বা বিমানবন্দরে লিখিত এসএসপি প্রণয়ন এবং বেবিচকের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে বেবিচকের এভসেক বিভাগ একটি মডেল এসএসপি তৈরি করেছে, যা বিদেশি অপারেটরদের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল বলেন, "এসএসপি প্রণয়নের মাধ্যমে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ সহজ করতে, জাতীয় বিধি মেনে চলতে এবং বেবিচক, আইকাও বা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অডিটে সফলভাবে কমপ্লায়েন্স প্রমাণ করতে সক্ষম হবে।"
আইকাও অডিটের প্রস্তুতি
এই কর্মশালা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন অডিটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত এই অডিট হবে ২০১৮ সালের পর প্রথম। কর্মকর্তারা জানান, এই দীর্ঘ বিরতিতে আইকাওর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকরী কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
কর্মকর্তারা আসন্ন অডিটকে কেবল বেবিচকের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক বেসামরিক বিমান খাতের জন্য একটি জাতীয় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কর্মশালা পরিচালনা
কর্মশালার কি-নোট উপস্থাপনা করেন উপ-পরিচালক ও চীফ এভসেক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি একইসাথে আইকাও অডিটর ও সার্টিফাইড ইন্সট্রাক্টর। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (এভসেক পলিসি এন্ড সার্টিফিকেশন) ইফতেখার জাহান হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) খান শাহীনুল বারি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম।
আয়োজকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও উদ্যম কর্মশালাটিকে সফল ও ফলপ্রসূ করে তুলেছে। সকলকে নিয়ে নিরাপদ আকাশ গড়ার প্রত্যয়ে গৃহীত এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে আরও সক্ষম করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।