বিমান ভর্তুকি পাওয়ায় অসন্তুষ্ট ৩ বেসরকারি এয়ারলাইন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, April 01, 2026
ফাইল ছবি
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিমান) ভর্তুকি পাওয়ায় কম ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করতে পারছে। এ নিয়ে বেসরকারি এয়ারলাইনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এতে অভ্যন্তরীণ এভিয়েশন বাজারে প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
গত ১৬ দিনে জেট ফুয়েলের দাম ১১৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি এয়ারলাইনগুলো প্রধান রুটগুলোতে প্রতি টিকিটে ১,২০০ টাকা করে ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছে। কিন্তু বিমান মাত্র ১০০ টাকা ভাড়া বাড়ানোয় সরকারি সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, “তেলের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিমান খুব বেশি ভাড়া বাড়ায়নি। যেখানে প্রতি টিকিটে প্রায় ১,৫০০ টাকা বাড়ার কথা, সেখানে তারা মাত্র ১০০ টাকা বাড়িয়েছে। এই ভর্তুকি কে দিচ্ছে? দেশের জনগণই দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের টাকা দিয়ে এভাবে ভ্রমণ খাতকে ভর্তুকি দেওয়া ঠিক নয়।”
তিন বেসরকারি এয়ারলাইন নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রা কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর রুটে ১,২০০ টাকা করে সারচার্জ যুক্ত করেছে। যশোর ও রাজশাহী রুটে ১,০০০ টাকা করে সারচার্জ যুক্ত করেছে। জ্বালানির দাম ১০০ শতাংশের বেশি বাড়ার পর দুই ধাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এয়ার অ্যাস্ট্রার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মেজবাউল ইসলাম বলেন, “ভাড়ার পার্থক্যের কারণে যাত্রীরা বিমানের দিকে ঝুঁকবে। বিমান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভর্তুকি পায়, এটা সবার জানা। আমরা আগাম টাকা দিয়ে জ্বালানি কিনি। আমরা চাই সব এয়ারলাইনকে সমানভাবে দেখা হোক।”
বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর দাবি, এই ভর্তুকি বাজারে অসামঞ্জস্য তৈরি করছে। তাদেরকে বাড়তি খরচ সরাসরি যাত্রীদের ওপর চাপাতে হলেও রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন কম দামে টিকিট দিতে পারছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “এর প্রভাব এয়ারলাইন ও যাত্রী দুই পক্ষের উপরই পড়ছে। আমরা চাই সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুক এবং এই খাতকে টিকিয়ে রাখুক।”
ঈদের পর যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানির দাম। এই দুই কারণে এভিয়েশন খাতেও চাপে পড়ছে। মেজবাউল ইসলাম একে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেন।
বেসরকারি এয়ারলাইনগুলো আশঙ্কা করছে যে ভাড়ার ব্যাপক পার্থক্যের কারণে যাত্রীরা আকাশযাত্রার জন্য শুধু বিমানকে বেছে নিলে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই তারা এমন একটি পরিবেশ চায় যেখানে সব এয়ারলাইন সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
এদিকে বিমান ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। তবে কবে তা কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর মতে ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। ফলে খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।