বিমানবন্দরে দ্রুত লাগেজ ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রতিমন্ত্রী
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Thursday, February 19, 2026
ফাইল ছবি
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সাথে সাথেই যাত্রীরা যেনো তাদের লাগেজ পায় তা নিশ্চিত করবে সরকার বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।
প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের বিমানবন্দর সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।
বুধবার নতুন সরকারের গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দর সেবার সর্বাত্মক পুনর্বিন্যাসের জন্য পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এতে টিকিটিং, লাগেজ হ্যান্ডলিংসহ সমস্ত প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
“শুধু টিকিটিং ব্যবস্থার সংস্কার নয়। আমরা চাই বিমানবন্দর ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে যাতে যাত্রীরা আর কষ্ট না পান। টিকিটিং সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের জটিলতা পর্যন্ত সব কিছুতেই সংস্কার আনা হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সচিব আমাদের সঙ্গে আছেন”, তিনি বলেন।
মিল্লাত জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। লাগেজ পেতে যেনো দীর্ঘ বিলম্ব না হয় ও দুর্নীতি কমানো যায় সেজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন , “প্রবাসীদের যেনো লাগেজ পেতে এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না হয় বা দুর্নীতির শিকার হতে না হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য । যাত্রীরা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার সাথে সাথেই তার লাগেজ বেল্টে দেখতে পাবেন এই পরিকল্পনাই করছি”।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাথে মিলে সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী টিকিটিংয়ে অনিয়ম উল্লেখ করে বলেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিতে সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।
“অনেকে টিকিট নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। অথচ ফ্লাইট খালি আসন নিয়ে উড্ডয়ন করছে। এর পেছনে সিন্ডিকেট দায়ী। আমরা মাত্র দায়িত্বভার নিয়েছি। তবে আমরা চ্যালেঞ্জগুলো পুরোপুরি বুঝি। সেগুলো সমাধানের জন্য পরিকল্পনা করেছি,” তিনি বলেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ধাপে ধাপে হলেও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অচিরেই দৃশ্যমান হবে।
তিনি বলেন, “রাতারাতি বড় পরিবর্তন না হলেও মানুষ পর্যায়ক্রমে তা অনুভব করবে। আশা করি আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে যাত্রীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখতে পাবেন”।
গত ১৫ বছরের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিল্লাত বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে সেখানে তদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, “দুর্নীতি থাকলে অবশ্যই তদন্ত হবে। অনেকেই ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে। খাত পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়, আমরা তা ঠিক করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ” ।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে শীঘ্রই বৈঠক হবে। পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনাও সরকারের কাছে রয়েছে।