দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এভিয়েশন নিরাপত্তা বিলের প্রস্তাব
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, February 20, 2026
ফাইল ছবি
গত বছর ওয়াশিংটন বিমানবন্দরের কাছে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এক বিস্তৃত এভিয়েশন নিরাপত্তা বিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ঐ দুর্ঘটনায় এক আমেরিকান এয়ারলাইনসের আঞ্চলিক জেট ও সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হন।
প্রতিনিধি পরিষদের পরিবহন ও অবকাঠামো কমিটি এবং সশস্ত্র বাহিনী কমিটির দ্বিদলীয় সদস্যরা বৃহস্পতিবার ঐ বিল উন্মোচন করেন। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল প্রশিক্ষণ উন্নত করা এবং দুর্ঘটনাস্থল রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের আশপাশের আকাশসীমায় নিরাপত্তা জোরদার কর।
প্রতিনিধি স্যাম গ্রেভস গণমাধ্যমে বলেন, এই বিল দুর্ঘটনার পেছনের কারণগুলো সরাসরি মোকাবিলা করে এভিয়েশন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করবে।
কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রিক লারসেন গণমাধ্যমে জানান, এই বিল আকাশসীমা নিরাপত্তা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)-এর ৫০টি সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বিলে এফএএ-এর প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ অডিটের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের রুট ডিজাইন উন্নয়ন এবং সামরিক বিমান পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিনিধি পরিষদ ১৬ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে ‘রোটর অ্যাক্ট’ নামে আরেকটি বিলের ওপর ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে, যা গত ডিসেম্বরে সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এই বিল অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে সব আকাশযানকে স্বয়ংক্রিয় ডিপেনডেন্ট সার্ভেইলেন্স-ব্রডকাস্ট (এডিএস-বি) প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। এটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দরের আশপাশে জেট ও হেলিকপ্টারের চলাচল পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করবে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদের বৃহস্পতিবার উত্থাপন করা বিলের কিছু অংশ সিনেটের আইনটির সঙ্গে যুক্ত করবে কি-না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত মাসে এনটিএসবি’র তদন্তে উঠে আসে, এফএএ-এর পদ্ধতিগত ব্যর্থতাই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ২০০১ সালের পর এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। তদন্তে বলা হয়, বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই হেলিকপ্টার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
তদন্তে আরও দেখা যায়, বিমানবন্দরের আশপাশে হেলিকপ্টারের চলাচল নিয়ে আগে থেকেই সতর্কতা পাওয়া সত্ত্বেও এফএএ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি।
এফএএ প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড এক সম্মেলনে স্বীকার করেন যে সংস্থাটির প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি এনটিএসবি’র সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন।
আমেরিকান ঈগল ফ্লাইট ৫৩৪২ পোটোম্যাক নদীর ওপর একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সাথে সংঘর্ষে ঐ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে কোস্ট গার্ডসহ স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলো উদ্ধার কার্যক্রম চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, হেলিকপ্টারগুলো বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত আকাশসীমায় পর্যাপ্ত বিচ্ছিন্নতা ছাড়া চলাচল করছিল। এনটিএসবি জানায়, আগে থেকেই এ বিষয়ে সতর্কবার্তা থাকলেও সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রস্তাবিত আইনটি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে এক দ্বিদলীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনপ্রণেতারা বিশেষ করে বড় শহরের ব্যস্ত আকাশসীমায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্যও এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে এই দৃষ্টান্ত সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় দুর্ঘটনার পরই সাধারণত বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আসে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ ধরনের নিরাপত্তা সংস্কার বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স