ভারতের স্পাইসজেটের প্রবেশ কি সত্যিই বাংলাদেশের আকাশসীমায় নিষিদ্ধ?
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, February 20, 2026
ফাইল ছবি
ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করলেও এয়ারলাইন স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়নি এমনটাই জানায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর মুকিত-উল-আলম মিয়া জানান, স্পাইসজেট সর্বশেষ মার্চ ২০২৪-এ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে এবং এরপর থেকে আর ওভারফ্লাইটের অনুমতি চায়নি।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওভারফ্লাইট বন্ধ করিনি। মার্চের পর তারা আর অনুমতিই চায়নি।”
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই বৃহস্পতিবার জানায়, বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বাংলাদেশ স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। ফলে কলকাতা ও গুয়াহাটি রুটের ফ্লাইটকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। আনন্দবাজারসহ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমেও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বেবিচকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে বলেন, স্পাইসজেটের কাছে নেভিগেশন চার্জ বাবদ প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বকেয়া রয়েছে। বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার অব্যাহত রাখার শর্তে এয়ারলাইনের সাথে প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার পরিশোধের সমঝোতায় করা হয়। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত অর্থ পরিশোধও করেছে ঐ এয়ারলাইন।
মুকিত-উল-আলম মিয়া বলেন, “তারা গত বছরের মার্চ পর্যন্ত আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে এবং অর্থ পরিশোধ করেছে। এরপর তারা আর ওভারফ্লাইটের অনুমতি চায়নি। কিছু বকেয়া জমে থাকতে পারে।”
তিনি প্রায় এক বছর পুরোনো বিষয়টি নিয়ে হঠাৎ করে গণমাধ্যমের আগ্রহ বাড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় এক বছর আগের বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম হঠাৎ কেন সরব হলো বুঝতে পারছি না। তবে তাদের সর্বশেষ অবস্থান জানতে আমরা রমজানের ছুটিতেও অফিস খোলা রাখছি।”
স্পাইসজেটের এক মুখপাত্র পিটিআইকে জানান, নেভিগেশন চার্জ ও অন্যান্য অপারেশনাল বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। “এগুলো এভিয়েশন সেবায় খুবই সাধারণ বিষয়। দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি,” তিনি বলেন।
উল্লেখ্য, অন্য দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে বিদেশি এয়ারলাইনকে নির্ধারিত নেভিগেশন চার্জ পরিশোধ করতে হয়। বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের কাছ থেকেই এ ফি আদায় করা হয়।
বেবিচকের কোনো নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়; বরং, স্পাইসজেট ২০২২ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা করলেও বাণিজ্যিক কারণে তা স্থগিত করে। স্বেচ্ছায় ওভারফ্লাইটের অনুমতি চাওয়াও বন্ধ করে দেয় ঐ এয়ারলাইন।