বিমানবন্দরের অকশন ম্যানেজার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ১
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, July 07, 2026
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
কম মূল্যে আইফোনসহ দামি মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
আজ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)। তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকার বসিন্দা।
সিআইডি জানিয়েছে, ৬ জুলাই মধ্যরাতে ডিএমপির ভাটারা ও বাড্ডা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদী ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে চাকুরিরত। প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাদীর সাথে যোগাযোগ করে। চক্রটি নিজেদেরকে বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা জানায়, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দকৃত বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি তারা দাবি করে, তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমার পলিসি গ্রহণে আগ্রহী, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা হয়।
পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) এর ভুয়া ডকুমেন্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে। এসব নথি দেখে ভুক্তভোগী প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়।
এরপর ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে ০২টি ব্যাংক হিসাব ও ০৩টি এমএফএস অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৩০ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। টাকা গ্রহণের পর তারা কোনো পণ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পেরে ডিএমপির পন্টন থানায় একটি মামলা করেন।
“পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রযুক্তিগত তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন এর সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়। গ্রেফতারকালীন তার কাছ থেকে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত আইফোনসহ ০৫টি মোবাইল ফোন ও ০৭টি সিম জব্দ করা হয়।”
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম, পরিচয় এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে স্বল্পমূল্যে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত।
“গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন ডিএমপির ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। গ্রেফতারকৃতর বিরুদ্ধে আরও মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে,” বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।