Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

বিমানের নারিতা প্রত্যাবর্তন: উত্তর আমেরিকায় যাত্রার নতুন প্রবেশদ্বার

বিমানের নারিতা প্রত্যাবর্তন: উত্তর আমেরিকায় যাত্রার নতুন প্রবেশদ্বার

আগামী ২৭ জুলাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের ঢাকা-নারিতা-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে। জাপানের সাথে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি এই আকাশপথটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকার পর পুনরায় সচল হচ্ছে।


জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটির জন্য এই রুটটি পুনরায় চালুর উদ্দেশ্য কেবল ঢাকা ও টোকিওকে যুক্ত করা নয়। বিমান কর্মকর্তাদের মতে, জাপান এয়ারলাইনস (JAL) এবং এয়ার কানাডার সাথে প্রস্তাবিত ‘কোডশেয়ার’ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নারিতাকে উত্তর আমেরিকা এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার প্রাথমিক ‘গেটওয়ে’ বা প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।


এই চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হলে যাত্রীরা একটি মাত্র টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ব্যাগেজ চেক-ইন সুবিধার মাধ্যমে নারিতা হয়ে ভ্যাঙ্কুভার, লস অ্যাঞ্জেলেস, সিউল এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বিরামহীনভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। এই কৌশলের মাধ্যমে বিমান নিজস্ব আল্ট্রা-লং-হল অপারেশন শুরু না করেই দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এভিয়েশন এক্সপ্রেসকে জানান, নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাপানে বর্তমানে ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী রয়েছেন এবং এই রুটটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার বিষয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।


রুটের বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রুটটি স্থগিত করার আগে এটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনা প্রমাণ করেছিল। প্রাথমিকভাবে কিছুটা লোকসান হলেও তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি লাভজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তা স্থগিত করা হয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকার কেন একটি লাভজনক রুট বন্ধ করেছিল তা আশ্চর্যজনক এবং বর্তমান সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মনোনিবেশ করছে।


বিমানের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাহিদা ইতোমধ্যেই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে নারিতা থেকে ঢাকা ফেরার ফ্লাইটের সব টিকিট ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। বিমান প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ব্যবহার করে। পরবর্তীতে চাহিদা এবং উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা অনুযায়ী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।


উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন এই ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর (JCAB) নিরাপত্তা অডিটের অনুরোধের কারণে তা বিলম্বিত হয়। এর আগে ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রুটটি চালু করা হয়েছিল, কিন্তু উড়োজাহাজ সংকট ও পরিচালন ব্যয়ের কারণে ২০২৫ সালের ১ জুলাই তা স্থগিত করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার লক্ষ্যে এই সেবাটি আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।


জাপান এয়ারলাইনসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবে মোতোহিসা গত বছর এক বৈঠকে জানান, বছরে প্রায় ৭০ হাজার যাত্রী বর্তমানে কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে টোকিও এবং ঢাকার মধ্যে ভ্রমণ করেন, যা সরাসরি আকাশপথের শক্তিশালী চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। নারিতা রুটটি এখন বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের কৌশলগত সম্প্রসারণ এবং উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া-প্যাসিফিকের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News