বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার—আমরা দুটোই কিনব: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Thursday, July 16, 2026
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তুলতে বোয়িং ও এয়ারবাস--উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় করবে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার। আমরা দুটোই কিনব।”
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার পরিকল্পনা ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার আগ্রহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না কিংবা এই ক্রয় কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে হচ্ছে কি না--এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব ধারণা নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, সরকার দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারগুলোর কারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি নাজুক অর্থনীতি পেয়েছেন। অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একদিকে আমাদের মিতব্যয়িতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে হবে। আমাদের বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার। আমরা দুটিই কিনব।”
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে কোনো দেশকে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “একেবারেই না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
এদিকে, গতকাল বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সাথে এক বৈঠকে বিমানের জন্য টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলা এবং দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে এয়ারবাস উড়োজাহাজ ক্রয় করতে আগ্রহের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বাংলাদেশ।
বৈঠকে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এবং ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা।
বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন, বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাস উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশের এয়ারবাস কেনার আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং সম্ভাব্য এয়ারবাস ক্রয়সহ সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদার করা এবং বহুমুখী অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।