চীন–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতিতে ৫০০ উড়োজাহাজ বিক্রির আশায় বোয়িং
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, March 07, 2026
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ২০১৭ সালের পর এটি তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হতে পারে। এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় আকারের বিমান ক্রয়চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
আলোচনায় রয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০টি ন্যারোবডি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ এবং অতিরিক্ত ১০০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার অথবা ৭৭৭ এক্স উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনা তীব্র হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
বড় অর্ডারের সম্ভাবনা
চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজের চাহিদা তৈরি হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে চীন ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকেও আরও ৫০০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি। এক সময় চীনের অর্ডার ছিল বোয়িংয়ের মোট অর্ডারবুকের প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩৩টি উড়োজাহাজে, যা মোট অর্ডারের প্রায় ২ শতাংশ।
ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করতে পারেন, যেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাল্টা হিসেবে ২০২৬ সালের কোনো এক সময়ে শি জিনপিংয়েরও যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য উত্তেজনা ও শুল্ক বিরোধ
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বও দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বোয়িং উড়োজাহাজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের হুমকি দিয়েছে, আর চীন পাল্টা হিসেবে বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশল
গত বছর ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে কয়েকটি এশীয় এয়ারলাইন্স বোয়িং থেকে বড় অর্ডার দিয়েছিল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মিলিয়ে ১০০টির বেশি উড়োজাহাজ অর্ডার দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার অংশ হিসেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় আকারের উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতির স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হয়। এসব চুক্তি সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চীনের বড় এয়ারলাইন্সগুলো
যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীনেও বড় তিনটি এয়ারলাইন্স রয়েছে— চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স এবং এয়ার চায়না। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত এবং চীনের অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন পরিচালনা করে।
এর বাইরে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হলো হাইনান এয়ারলাইন্স, যা উচ্চমানের সেবার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সম্ভাব্য বড় অর্ডার বাস্তবায়িত হলে এটি বোয়িংয়ের বাজার অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন গতি আনতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স ও সিম্পল ফ্লাইং