ঢাকা বিমানবন্দরে ৪ বছর ধরে অব্যবহৃত ২৭ জার্মান ই-গেইট; নেই জবাবদিহিতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Tuesday, March 10, 2026
ফাইল ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা বিমানবন্দর) জার্মানি থেকে আনা উন্নত ই-গেইট সিস্টেম প্রায় ৪ বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে যাত্রীদের ই-পাসপোর্ট থাকলেও এখনো সাধারণ ইমিগ্রেশন কাউন্টার ব্যবহার করতে হচ্ছে।
২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করে। এরপরই ঢাকায় ২৭টি বিশেষ ই-গেইট স্থাপন করা হয়। এতে করে ই-পাসপোর্টধারীদের ১৮ সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে এমন সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। ১১ মাস পরীক্ষা করার পর ২০২২ সালের ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এই ই-গেইট সিস্টেম।
কিন্তু, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে উদ্বোধনের মাত্র ৮ মাস পরই ২৭টি গেইট একসাথে বন্ধ হয়ে যায়। এখন যাত্রীরা ম্যানুয়াল ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। বুঝা গেছে, ব্যয়বহুল জার্মান প্রযুক্তি এদেশে এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠেনি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এয়ার কমোডোর (অব.) ইশফাক এলাহি চৌধুরি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার অভাবকে দায়ী করে গণমাধ্যমে বলেন, এখানে সবই সরকারী চাকরি। আজীবন এই চাকরি থাকে। চেইন-অব কমান্ডের কোনো ক্ষমতা নেই। ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষমতা এতো বেশি যে কোনো কাজ এগোয় না।
যাত্রী সুবিধা অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানান, দায়বদ্ধতার অভাবে উন্নত প্রযুক্তি পড়ে থাকে। আর যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি স্বীকার করে এভিয়েশন এক্সপ্রেসকে জানান, এই সমস্যা মূলত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট।
তিনি আরও বলেন, সব পাসপোর্ট তো আর ই-পাসপোর্ট নয়, তাই সিস্টেম রিড করতে পারছে না। ই-গেইট দিয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলেও যাত্রীদের আবারও ম্যানুয়াল কাউন্টারে যেতে হয়। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পূর্বে উপদেষ্টা (অন্তবর্তী সরকার) পর্যায়ে জানানো হয়।
জানা গেছে, ই-গেইট সিস্টেম ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হবে বা কবে পুরোপুরি চালু হবে তা নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া, যাত্রীরা ই-গেইটে ইমিগ্রেশন শেষ করার পরও কেন তদের আবার ম্যানুয়াল কাউন্টারে যেতে হয় সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি প্রশাসনের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ নূরুল আনোয়ারকে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।