মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঢাকায় ১১ দিনে বাতিল ৩৬৭ ফ্লাইট
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, March 10, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা বিমানবন্দর) থেকে ১১ দিনে মোট ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে হাজারো বাংলাদেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
পরবর্তী দিনগুলোতেও বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা বেশি ছিল। ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এছাড়া ৭ ও ৮ মার্চ প্রতিদিন ২৮টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়। ৯ মার্চ বাতিল হয় আরও ৩৩টি ফ্লাইট।
ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনাকারী অন্তত ১০টি এয়ারলাইনের কার্যক্রম এতে প্রভাবিত হয়েছে। ১০ মার্চ কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। শারজাহভিত্তিক এয়ার আরাবিয়া ৪টি ফ্লাইট বাতিল করে। একই দিনে বাহরাইনভিত্তিক গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, কুয়েতভিত্তিক জাজিরা এয়ারওয়েজ এবং ফ্লাইদুবাইয়েরও একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়।
বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোর মধ্যেও প্রভাব পড়েছে। ১০ মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৩টি ফ্লাইট বাতিল করে। এতে সেদিন মোট ৩২টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার আরাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, জাজিরা এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সসহ একাধিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
এতে করে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবারসহ ভ্রমণকারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা গেআঞ্চলিক আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এভাবেই প্রতিদিন ফ্লাইট বাতিল করা বজায় থাকবে। যাত্রীদের টিকিট যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করা বা অর্থ ফেরত নেওয়া সংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।