মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিভিল এভিয়েশন একাডেমি
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, March 10, 2026
ছবি: সংগৃহীত
এভিয়েশন খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিভিল এভিয়েশন একাডেমি।
এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি ‘ট্রেনিং কম্পিটেন্সি ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সেমিনারে বেবিচকের ডেপুটি ডিরেক্টর (এটিএম) মোঃ মজিবুর রহমান মিয়াজী বলেন, আধুনিক এভিয়েশন পরিচালনায় দক্ষ জনবল এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ও অবকাঠামো থাকলেই নিরাপদ অপারেশন নিশ্চিত করা যায় না। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পেশাজীবীরাই একটি কার্যকর এভিয়েশন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক ও আইকাও প্রশিক্ষক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ মানদণ্ডের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আইকাওর গ্লোবাল এভিয়েশন ট্রেনিং কর্মসূচি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি একক কাঠামোর অধীনে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, ট্রেইনার প্লাস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষতাভিত্তিক কোর্স তৈরি করতে পারবে। ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো যাবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
অন্যান্য বক্তারা জানান, দেশের এভিয়েশন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা মান বজায় রেখে ক্রমবর্ধমান আকাশপথের চাহিদা মোকাবেলায় দক্ষ জনবল তৈরিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির সাম্প্রতিক অর্জনগুলোও আন্তর্জাতিক মানের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছে। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় নিজস্ব ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়ে ২০২২ সালে আবারও আইকাও ট্রেইনার প্লাস সদস্যপদ ফিরে পায় প্রতিষ্ঠানটি।
এরপর তিন বছরের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালে সিলভার এবং ২০২৫ সালে গোল্ড সদস্যপদ অর্জন করে।
গোল্ড সদস্যপদ অর্জন করায় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ মানদণ্ড পূরণকারী নির্বাচিত দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে আইকাওর মানদণ্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেছে বলে জানানো হয়।
সেমিনারে বেবিচকের কর্মকর্তারা, একাডেমির প্রশিক্ষক এবং এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত এভিয়েশন খাতে মানবসম্পদের ঘাটতি মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।